নীলফামারী প্রতিনিধি।। নীলফামারীর ডোমারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অশালীন আচরেণর জেরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন তোফায়েল আহমেদ। এবার তাকে দল এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকেও বহিস্কারের দাবি জানালেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ড আয়োজন করে সংবাদ সম্মেলনের। মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদ যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। ১৯৮৮ সালে সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ (ডোমার ডিমলা) আসনে ফ্রিডম পাটির প্রার্থী মো. নুরন্নবী দুলালের পক্ষে ডোমার উপজেলা সমন্বয়কারী ছিলেন। পরে ভোল পাল্টিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় মনোনয়নে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ফিরে আসে তার পুরোনা রূপ। দেশের শ্রেষ্ট সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের নানা কটুক্তিতে লিপ্ত হন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা পরিষদ আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা দেন সাবেক উপ-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমিনুল হক, ডিমলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শামসুল হক, জলঢাকা উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হামিদুর রহমান, ডোমার উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নূরন নবী, সৈয়দপুর উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শামসুল হক, কিশোরগঞ্জ উপজেলার ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গনেশ চন্দ্র রায় প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে জেলায় ছয় উপজেলার অর্ধশতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমিনুল হক বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীর সন্তান এবং ফ্রিডম পাটির নেতা তোফায়েল আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অধিকার রাখেন না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আওয়ামী লীগের প্রভাবকে ব্যবহার করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেছেন তিনি। তাকে শুধু উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান যথেষ্ট শাস্তি নয়। তাকে দল এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আর কোন জাতীয় দিবসে গত ২৬ মার্চের ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটুক আমরা তা চাই না। মুক্তিযুদ্ধের অর্জণ এসব জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের সন্তানরা অংশগ্রহন করবেন। সেখানে যুদ্ধাপরারী বা তাদের সন্তান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলে সেটা আমরা মেনে নিব না। আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে তোফায়েল আহমেদকে দল এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে বহিস্কারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বৃহৎ আন্দোল কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবসে পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান বর্জণ করে আসছেন ওই উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ পতাকা উত্তোলনের অনুষ্ঠান বর্জণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানরা। এর জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন তোফায়েল আহমেদ। এমন জেরে গত ৩১ মার্চ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তাকে (তোফায়েল আহমেদ) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়।