• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন |

ফুলবাড়ীতে ছেলের নির্যাতনে হাসপাতালে মা, বাড়ি ছাড়া বাবা

মেহেদী হাসান, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)।। নিজের গর্ভের ছেলের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন গর্ভধারনী মা। ছেলের নির্যাতনের ভয়ে বাড়ীছাড়া জন্মদাতা পিতাও।
এই হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের কিসমতলালপুর গ্রামে।
বৃহস্পতিবার সকালে ছেলের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বৃদ্ধ মা জহুরা বেগম (৬০)। তিনি কিসমত লালপুর গ্রামের তইজ উদ্দিনের স্ত্রী।
তইজ উদ্দিন জানায়, জমি ভাগাভাগিতে কমবেশি হওয়ায় তার নিষ্ঠুর ছোট ছেলে নবীউল ইসলাম গত বুধবার বিকালে তার গর্ভধারিনী মা জহুরা বেগমকে গালমন্দসহ শারিরীক ভাবে নির্যাতন করে। ঘটনাটি স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যাক্তিসহ সাংবাদিকদের মাঝে জানাজানি হলে নবীউল ইসলাম আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে জহুরা বেগমকে আবারও বেধড়ক মারপিট করে। এতে জহুরা বেগম আহত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন মা জহুরা বেগম।
জহুরা বেগম ও তার স্বামী তইজ উদ্দিন আরো বলেন, তার বাড়ীর ভিটাসহ ১৫৯শতক জমি তার তিন ছেলে ও এক মেয়েকে হেবা দলিল করে দেন। কিন্তু হেবা করার সময় মেয়ের নাম দেয়াকে কেন্দ্র করে তার ছেলে নবীউল ইসলাম তাদের উপর অত্যাচার শুরু করে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট কয়েক দফা বিচারও হয়েছে। এতে করে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার (২৯ জুন) বিকালে তাদের বাড়ী ঘরে ভাংচুর চালায়। এতে বাঁধা দিতে গেলে পিতা তইজ উদ্দিন  ও মা জহুরা বেগমকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। এই ঘটনা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গকে জানালে, বৃহস্পতিবার আবারও তার মাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে।
তইজ উদ্দিন বলেন, তার স্ত্রী হাসপাতালে থাকলেও তিনি তার ছেলের ভয়ে বাড়ীতে যেতে পারছেননা। তাকে পেলেও তার স্ত্রীর ন্যায় তাকেও মারপিট করবে। এই কারনে তিনি এখন গৃহছাড়া হয়ে পড়েছেন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত নির্যাতনকারী ছেলে নবীউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে সে মারপিটের কথা অস্বীকার করে বলেন তার (পিতা-মাতা) তার বোনকে জমি দিয়েছে, তাও আবার তার চেয়ে বেশি সে কারনে তাদের এই বাড়ী ছেড়ে চলে যেতে হবে, এই বাড়ীতে তাদের থাকার প্রয়োজন নাই।
এই বিষয়টি নিয়ে কথা বললে খয়েরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান, এবিষয়ে কয়েক দফা বিচার করেও বিষয়টি সমাধান করা যায়নি। তিনি বলেন, বিচার করার পরেও নবীউল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা বাড়ীতে তাদের পিতা-মাতার উপর অত্যাচার করে।
এদিকে ছেলের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন গর্ভধারনী মা জহুরা বেগম। তিনি এই ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নির্যাতনের শিকার জহুরা বেগমের স্বামী তইজ উদ্দিন বলেন, তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে কথা বলে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ