• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

জয়পুরহাটে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাতিক্রমী স্মৃতিচারনে তাদের সন্তানরা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি।। ১৯৭১ এর উত্তাল দিনগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের মরনপন লড়াই, নির্ঘুম জীবন যাপন, প্রায় অযোগ্য খাদ্য গ্রহন, বনে জঙ্গলে অবস্থান, পাক-হানাদারদের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পরাসহ সেই বীর সেনাদের নানা দিক নিয়ে সমৃতিচারনের ব্যাতিক্রমী আয়োজন করেছেন জয়পুরহাটের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা। শুক্রবার পরন্ত বিকেলে জয়পুরহাট শহরের খব্ধনপুরে তষনকার মহকুমা শহরের স্বাধীনতা পতাকা উত্তোলনকারী মুক্তিযোদ্ধা বাঘা বাবলু ও খন্দকার ওলিউজ্জামান আলম ভাতৃদ্বয়ের বাস ভবনে এই আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন জয়পুরহাট সদরের মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ওলিউজ্জামান আলমের ছেলে জয়পুরহাট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি সাজ্জাদ আহম্মেদ ময়না, একই সংগঠনের নেতা জয়পুরহাট শহরের মাষ্টারপাড়া এলাকার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা জনাব আলীর ছেলে হাসানুজ্জামান সাগর, সদরের পল্লীবালা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবু তৈয়বের ছেলে আহসান হাবিব, ষ্টেডিয়াম এলাকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমানের ছেলে সোহেল রানা, আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেনের ছেলে রেজাউল করিম জিয়া, চিয়ারী গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা অছিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হাকিম, ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক সরকারের এমএলএ ও পাঁচবিবি পৌর শহরের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সাঈদুর রহমানের ছেলে রবিউল ইসলাম লিটনসহ অন্যান্যরা।

মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা জানান, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াল দিনগুলোতে তারা ছিলেন শিশু। দীর্ঘ ৯ মাস তাদের অনেকের মা ভাই বোন দাদা, দাদীসহ পরিবারের সকল সদস্যদের নিভৃত ও দূর্গম অ লে লুকিয়ে রেখে তাদের বাবারা প্রথমে ভারতে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। পরে বাংলার মাটিতে প্রবেশ করে পাক হানাদের সাথে অসম যুদ্ধে অবর্তীন হন, এ কথা বড় হয়ে তারা বাবা-মা ও পাড়া-পড়শিদের কাছে শুনেছেন।

অনেকে তাদের বাবাদের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেন, ৯ মাস প্রানপন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনের পর বাবারা যখন বাড়ি ফিরেন, অনেক সন্তানই তাদের বাবাকে চিনতে পারেননি। বাবা-মা’র আদর-¯েœহ পাওয়া প্রত্যেক শিশুরই জন্মগত অধিকার থাকলে সে সময় তারা ছিলেন বি ত। আবার, তাদের বাবারাই স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেন বলে তারা গর্ববোধ করতেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে শোনা উল্লেখ করে তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ঘুমের কোন সময় সীমা ছিল না, দিনের বেলা বনে-জঙ্গলে এক দল মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে অর্ধেক ঘুমালেও অর্ধেক অস্ত্র হাতে জেগে থাকতেন, আর রাতের অন্ধকারে পাক-বাহিনীর অবস্থানের উপর হামলা করাই ছিল তাদের নিয়মিত কাজ।

বক্তার আরো বলেন, আর খাওয়া-দাওয়া বলতে স্বাধীনতা প্রিয় সাধারন মানুষ চাল, ডাল আলু, পোটল, মরিচ, লবন দিতেন। অনেক সময় ধোয়ার ব্যবস্থা থাকত না, তেল পাওয়া যেত না। কাটার বটিও পাওয়া যেত না অনেক সময়। তখন এক বস্তার মধ্যে আলু, পোটল, বেগুন, করলা, লাউ, কুমরা ভরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে থ্যঁতলা করে অধোয়া চালের মধ্যে পুকুর বা ডোবার পানি দিয়ে অর্ধ সিদ্ধ ‘জগাখিচরী’ রান্না করে কলার পাতায় তা খেয়ে কোন রকমে জীবন ধারন যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন সেই বীর যোদ্ধারা।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি সাজ্জাদ আহম্মেদ ময়না বলেন, ‘ আমাদের বাবারা জীবন বাজী রেখে স্বাধীনতা এনেছেন। প্রয়োজন হলে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌম্ব ও রাষ্ট্রের অখন্ডতা রক্ষায় আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাও পিছ পা হবো না।

৫২’র মহান ভাষা আন্দোলন স্মরনে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারন আয়োজনে জেলার ৫২ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অংশ গ্রহন করেন।
শেষে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে কলার পাতায় দুপুরের আহার করেন মুক্তিযুদ্ধের সন্তানরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ