• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

নীলফামারীতে নূরের গাড়িবহরে হামলার মামলা চার্জ গঠনের অপেক্ষায় !

সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে সাবেক সংস্কতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলায় চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী হত্যা ঘটনার আজ বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) নয় বছর পূর্তি । এ ঘটনার দীর্ঘ সময়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই মামলার। চার্জ গঠনের অপেক্ষায় আদালতে মামলাটি পড়ে আছে ছয় বছর ধরে। ২০৬ আসামীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। অন্য আসামীদের মধ্যে ১৭৩ জন জামিনে থাকলেও আদালতে গড় হাজির রয়েছেন ৩০ জন। দীর্ঘ সময়েও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।
২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকালে জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা চালায় জামায়াত-বিএনপি। ওই হামলায় আসাদুজ্জামান নূর প্রাণে রক্ষা পেলেও নিহত হন আওয়ামী লীগের চার নেতা-কর্মী।
নিহতরা হলেন, টুপামারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী, টুপামারী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন শাহ্ ও তার ছোট ভাই মুরাদ হোসেন শাহ্, আওয়ামী লীগ কর্মী লিটন হোসেন লেবু।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, আলোচিত ওই হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার নয় বছরেও কোনো অগ্রগতি নেই। আসামীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে দম্ভে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এবিষয়ে টুপামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম শাহ বলেন,‘দীর্ঘ সময় ধরে আমরা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছি। দ্রুত সকল বাধার অবসান ঘটিয়ে নির্মম ওই হত্যাকান্ডের বিচারকার্য নম্পন্নের দাবি জানাচ্ছি।’
সে সময়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার। তিনি বর্তমানে কর্মরত আছেন চট্টগ্রামে পিবিআইতে। মুঠোফোনে তিনি জানান, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় রাতে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে প্রধান আসামী করে নামীয় ১৪জনসহ অজ্ঞাত প্রায় দেড় হাজার জনকে আসামী করে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ ২০৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজার রহমান। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, এখনও স্বাক্ষী শুরু হয়নি।’
এ বিষয়ে নীলফামারী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অক্ষয় কুমার রায় বলেন,‘মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চার্জ গঠনের অপেক্ষায় ছয় বছর ধরে আছে। ২০১৭ সালের ৩০ মে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে বদলি হয়ে এ আদালতে আসে। সে আদালতের বিচারক দীর্ঘদিন অসুস্থ্য থাকায় বিচার কাজের তেমন অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে সমস্যা কেটে গেছে, আগামী বছরের চার জানুয়ারী ধার্য তারিখ রয়েছে।’
তিনি জানান, ওই মামলার ২০৬ জন আসামীর মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। জামিনে রয়েছেন ১৭৩ জন এবং গড় হাজির রয়েছে ৩০ জন।

নিহতদের স্মরণে আজ দোয়া মাহফিল ও শোক সভা:
টুপামারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাশেম শাহ জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বুধবার বিকালে রামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিল ও শোক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে নিহতদের কবরে পুস্পমাল্য অর্পণ শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হবে। এসকল কর্মসূচিতে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নিবেন।
কি ঘটেছিল সেদিন
২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার রাতে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ও পলাশবাড়ি গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালায় জামায়াত-বিএনপি। ঘটনার দুইদিন পর ১৪ ডিসেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শণে যান নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। পরিদর্শণ শেষে বিকালে জেলা শহরে ফেরার সময় টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে ধারালো অস্ত্রধারী জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর পথ রোধ করে হামলা চালায়। সে হামলায় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মী নিহত এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহন।

জামায়াত-বিএনপির তিন লাশ উদ্ধার:
ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলার তিন আসামীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দায়েরকরা মামলার প্রধান আসামী লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানীর লাশ ২০১৪ সালের ১৮ জানুয়ারী সকালে জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের নীলফামারী-ডোমার সড়কের গোচামারী সেতুর কাছ থেকে উদ্ধার হয়। এরপর সে বছরের ২০ জানুয়ারী সৈয়দপুর বাইপাস সড়কের ধলাগাছ নামক স্থান থেকে টুপামারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম আতিক এবং ২০১৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারী বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা থেকে শিবির কর্মী মহিদুল ইসলামের (২৬) লাশ উদ্ধার হয়। মহিদুলের বাড়ি টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জের সুখধন গ্রামে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগের (ফার্সি) মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মামলায় তাকে অজ্ঞাত আসামী দেখানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ