• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন |

জয়পুরহাট শাহ পাগলা বাবা’র মাজারে ২ দিন ব্যাপী সাধু উৎসব অনুষ্ঠিত

জয়পুরহাট প্রতিনিধি।। প্রতি বছরের মত এবারেও জয়পুরহাটে ২ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো সাধু উৎসব। জয়পুরহাট সদর উপজেলার চকশ্যাম এলাকায় শাহ সুফি আছের আলী পাগলা বাবা গরীব শাহ’র দরবার শরীফে গত বৃহষ্পতিবার এ উৎসব শুরু হয়। আর শুক্রবার দিবাগত রাতভর ভান্ডারী, মুর্শিদী, লালন ও ভক্তিমূলক গানের আসরের মধ্য দিয়ে সাধু উৎসবের মূল পর্ব শেষ হয়। আর শনিবার দিনের প্রথমার্: পর্যন্ত চলে গ্রামীন মেলা।

ব্যাপক জনশ্রুতি মতে জয়পুরহাট সদর উপজেলার চকশ্যাম এলাকা দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী বনজঙ্গল ঘেরা এক নির্জন এলাকায় আত্মাতিœক সাধনায় বসেন শাহ সুফি আছের আলী দরবেশ, স্থানীয়রা তাকে পাগলা বাবা গরীব শাহ বলেও জ্ঞান করেন। এই পাগলা বাবা নাটের জেলার বাসিন্দা হলেও সংসারত্যাগী এই সাধক পুরুষ ছিলেন আজমীর শরীফে চির নিদ্রায় শায়িত সাধক হয়রত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি (রঃ) এর অন্যতম ভক্ত হযরত শাহ সুফি আজগড় আলী দরবেশের শিষ্য। গুরু আজগড় আলী দরবেশ মৃত্যুবরন করলে তিনি আজমীর শরীফে হয়রত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতি (রঃ) এর মাজারের পাশে বকুলতলায় চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন।

কথিত রয়েছে, আজগড় আলী দরবেশের নির্দেশে পাগলা বাবা নাটোর জেলার মায়া ত্যাগ করে জয়পুরহাটের খঞ্জনপুর এলাকার এই নির্জন স্থানে ধ্যানমগ্ন হয়ে আধ্যাাতিœক জ্ঞানলাভ করেন। পাগলা বাবা’র জীবদ্দশায় জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের ৩য় বৃহষ্পতিবার ও শুক্রবার ২ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই সাধু উৎসব। তিনি ২০১৮ সালে ইন্তেকাল করলে এখানেই তার মাজার স্থাপন করা হয়।

এ আধ্যাত্বিক উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে সমবেত হন পাগলা বাবা’র ভক্ত-অনুরাগীরা। খানা-পিনা’র পাশাপাশি বাউল সাধকরা ভান্ডারী, লালন, বাউল, মুর্শিদীসহ নানা আত্যাত্মিক ও ভক্তি মূলক গানে গানে মাতিয়ে রাখেন হাজারো দর্শক-শোতা ও ভক্তদের।

আধ্যাতিক গান পরিবেশন করতে আসা জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কিরন বাউল, নতগাঁর ধামুইর হাটের রনজিত বাউল, নওগাঁর বাউল শরীফা পারভীনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাউলরা জানান, তারা প্রতি বছর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বাউল গানের আসরে প্রান উজার করা আধ্যাত্মিক গান পরিববেশন করে ভক্তদের হৃদয় জয় করতে পারেন। এ ছাড়া সামন্য কিছু সন্মানীও পান, এতেই তারা তৃপ্ত হন বলেও জানান বাউলরা।

ব্যাতিক্রমী এক আত্মাত্মিক উৎসবকে ঘিরে শুরুর দিন বৃহষ্পতিবার বিকাল থেকে শনিবার দিনের প্রথমার্ধ পর্যন্ত পাগলা বাবা’র মাজারের আশপাশে বসে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন মেলা। এ মেলায় নানা স্বাদের মিঠাই মন্ডার পাশাপাশি খেলনাসহ হরেক রকমের দোকানে পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা। বেচাকেনাও বেশ জমে উঠে। বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতারা

পার্শ্ববর্তী নওগা’র বদলগাছি’র খেলানা’র দোকানী আবুল হারেস মন্ডল, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি’র মিষ্টির দোকানী সামসুদ্দিন ফকির, জিলাপী জিকনতে আসা শহরের আরাম নগর এলাকার রতন হোসেন, ভক্তি মূলক গান শুনতে আসা বদলগাছির মন্টু কুমারসহ অনেক দর্শনার্থীরা জানান, ‘মূলত দু’দিন ব্যাপী মূল অনুষ্ঠান, আরো একদিন যায় ভাঙ্গা-চুরা আর বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করতে। ভিন্ন স্বাদের এই মেলায় তারা এসে বিশেষ আধ্যাতিক চেতনা অনুভব করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাধু উৎসবের আয়োজক আয়োজক কমিটি পরিচালক শাহ সুফি রফিকুল ইসলাম রকেট চিশতি জানান, ‘ পাগলা বাবা’র প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য এ উৎসবকে ঘিরে ভক্তরা এখানে উপস্থিত হন। এ ছাড়া হাজারো দর্শনার্থীরা আসেন তাদের হৃদয় নিংরানো ভালবাসা জানাতে, এতেই ওপার থেকে বাবা ধন্য হন।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ