কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি।। সুপারি চুরির জেরে শালিস বৈঠকে বৃদ্ধকে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলায় লজ্জায় অপমান ও ক্ষোভে ঘটনাস্থলে বিষপান করে আব্দুল হামিদ(৬৫)। তাকে তাৎক্ষনিক স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি দক্ষিণ পাড়া গ্রামে ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উত্তর দুরাকুটি দক্ষিণ পাড়া গ্রামে মৃত্যু বারান উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলামের সম্প্রীতি সুপারি চুরি হয়। নুরুল ইসলাম সুপারি গাছের নিচে স্যান্ডেল দেখে সন্দেহ করেন একই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে পায়েলকে। এঘটনায় নুরুল ইসলাম প্রতিবেশী আবুল কালামকে সাথে নিয়ে পরদিন আবার পায়েলের বাড়ীতে গিয়ে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেন। এসময় কালাম বলেন নুরুল ইসলামের সুপারি না হয়ে আমার সুপারি চুরি গেলে আমি পায়েলের বাবা মায়ের হাড্ডি ভেঙ্গে দিতাম।এ কথা শুনতে পেরে পায়েলের বৃদ্ধ চাচা ভ্যান চালক আব্দুল হামিদ প্রতিবাদ করে বলেন যে, সুপারি চুরি করেছে আপনারা তাকে বলেন এখানে কেন ঝগড়া বাধাতে এসেছেন। বৃদ্ধের এ কথার ক্ষোভ ধরে আবুল কালাম বাদি হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করে।
পুলিশ সরেজমিনে গেলে থানায় মামলা হয়েছে এ কথা কালাম বিভিন্ন লোকের কাছে প্রচার করে। ঘটনার প্রেক্ষিতে গ্রাম্য মাতব্বর এমদাদুল হক ও ছফিয়ার পাগলার নেতৃত্বে একটি শালিস বৈঠকের আয়োজন করে।গত ৯ এপ্রিল একটি শালিস বৈঠকে ওই বৃদ্ধকে নুরুল ইসলাম এবং আবুল কালাম শর্ত দেয় যে পা ধরে ক্ষমা চাইলে আমরা এঘটনা মিমাংসা করব । তাদের একথায় বৃদ্ধ হামিদ অপমানিত বোধ করে প্রকাশ্যে সবার সামনে সেখানেই বিষপান করে।
এলাকাবাসী তাকে তাৎক্ষনিক কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে।বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল হামিদ মারা যায় ।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজীব কুমার রায় তার মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেন বলেন পায়েলের পরিবারের হুমকি ধামকির কারনে আবুল কালাম থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন ।ওই সাধারণ ডাইরি প্রসিকিউশন মামলার জন্য কোটের অনুমতির চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বিষ পানের আত্মহত্যার বিষয়ে একটি ইউডি মামলা হয়েছে।