সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সহপাঠীর প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অভিজাত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কলেজ ছাত্রীকে মারপিট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভুক্তভোগি কলেজ ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো পাঁচজনকে আসামী করে স্থানীয় থানায় একটি মামলা করেছেন।
এ মামলায় এজাহারনামীয় আসামীরা হচ্ছে, শহরের বাঁশবাড়ী শহীদ মাহাতাব বেগ লেনের বাসিন্দা মো. জাবেদ ওরফে চঞ্চলের ছেলে জুনায়েদ তৌহিদী (১৯) এবং শহরের নয়াটোলা এলাকার মো. শহিদ আলমের ছেলে মো. মামুন আলম (১৯)। পুলিশ আজ শনিবার বেলা ৩টার দিকে সৈয়দপুর প্লাজা সুপার মার্কেট থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মামুন আলমকে গ্রেফতার করেছে।
মামলা আরজিতে বলা হয়, ভুক্তভোগি সৈয়দপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের এক ছাত্রী। সে নিয়মিত তাদের প্রাইভেটকারে করে দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরের বাসা থেকে কলেজে যাওয়া আসা করে। আর তাকে প্রায় সময় প্রেম প্রস্তাব দেওয়াসহ বিভিন্ন রকম কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল সহপাঠী জুনায়েদ তৌহিদী। কিন্তু কলেজ ছাত্রী তার সহপাঠীর দেওয়া প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এতে করে সহপাঠী জুনায়েদ তৌহিদী ওই কলেজ ছাত্রীকে নানা প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
এ অবস্থায় গত ৩ মে (বুধবার) বেলা পৌণে তিনটার দিকে কলেজ ছুটির পর ওই ছাত্রী তাদের নিজস্ব প্রাইভেট কারে (নম্বর: ঢাকা মেট্টো-গ-১৪-৯৪৩১) করে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। আর তাকে বহনকারী তাদের প্রাইভেটকারটি বিকেলে সোয়া তিনটার দিকে সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের চেকপোষ্ট মোড় সংলগ্ন একটি ব্রীজের নিকটে পৌঁছে। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলে করে জুনায়েদ তৌহিদী ও মো. মামুন আলমসহ কয়েকজন এসে ওই কলেজ ছাত্রীকে বহনকারী প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে। এরপর জুনায়েদ তৌহিদী প্রাইভেটকারের পিছনের বাম দিকের দরজা লাথি মারে এবং জোরপূর্বক গাড়ির দরজা খুলে টানাহেঁচড়া করে ওই কলেজ ছাত্রীকে বের করে পাকা সড়কের ওপর ফেলে দেয়। পরবর্তীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জুনায়েদ তৌহিদী কলেজ ছাত্রীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করা শ্বাষরোধ করার চেষ্টাসহ কলেজ ইউনিফর্ম ছিঁড়ে ফেলে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়।
এ সময় প্রাইভেটকারটির চালক মো. শাকিল কলেজ ছাত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা তাকেও কিলঘুষি মারে। এ সময় কলেজ ছাত্রী নিজেকে রক্ষার জন্য তাদের প্রাইভেটকারে উঠতে চেষ্টা করলে জুনায়েদ তৌহিদী পুনরায় তাকে টানা হেঁচড়া করে পাকা সড়কের ওপর ফেলে দেয় এবং তাঁর তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লাথি ও কিলঘুষি মারতে থাকে। এতে কলেজ ছাত্রীর ডান হাত গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রীর বাবা নিজে বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে জুনায়েদ তৌহিদী ও মো. মামুন আলমের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরো ৫জনকে আসামী করে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রাইভেটকারটি ভাংচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সৈয়দপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি সিসি নিউজকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলার এজাহারনামীয় আসামী মামুন আলমকে আজ শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করাসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।