সিসি নিউজ।। নীলফামারী আদালত চত্বরে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পূর্বের ঘটনার জের ধরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে। হাতাহাতির ঘটনায় ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন আহত হয়েছেন। তিনি নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরাতন সদস্য নবায়ন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন শাখার কার্যনির্বাহী কমিটি সভা আহবান করে। গত ১২ জুলাই কামারপুকুর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে সভা শুরুর প্রাক্কালে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ আকস্মিক সভাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় তারা সভার কাজে বাধার সৃষ্টি করে। এ সময় তাদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। এতে আনোয়ার গ্রুপের হাতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুর রশিদসহ ৭/৮ জন আহত হন। গুরুতর আহত আব্দুর রশিদ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনার পর আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি ও কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ ১৬ জনের নামে গত ১৫ জুলাই সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা করেন।
অন্যদিকে, একই হাতাহাতি ঘটনায় আনোয়ার হোসেন গ্রুপের পক্ষ থেকে পৃথক একটি মামলা করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কামারপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জিকো আহমেদসহ ১৮ জনকে আসামি করে সৈয়দপুর থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে বুধবার (১৯ জুলাই) নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মমতাজুল হক উভয় পক্ষকে নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মীমাংসার জন্য বসেন। কিন্তু তাতে কোন সুরাহায় আসতে পারেনি তিনি।
এদিকে, আওয়ামী লীগের কামারপুকুর ইউনিয়ন শাখার দুই গ্রুপের থানায় করা মামলার আসামিরা আজ বৃহস্পতিবার নীলফামারীতে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নিতে যান। এ সময় তাদের মধ্যে আদালত চত্বরে আবার হাতাহাতি ঘটনা ঘটেছে। এতে আওয়ামী লীগের কামারপুকুর ইউনিয়ন শাখার বহিস্কৃত সভাপতি ও কামারপুকুর আনোয়ার হোসেন বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিকো আহমেদ ও তার ছোট ভাই জসি আহমেদের নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা করা হয়। হামলায় তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ায় আদালতে হাজিরা দিতে পারেন নি।
অপরদিকে, কামারপুকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিকো আহমেদ বলেন, মামলায় হাজিরা দিতে আমরা আদালতের দোতলায় দাড়িয়ে অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় আদালত চত্বরের নিচে কে বা কারা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের ওপর হামলা করে তা আমার জানা নেই। তার কোন শত্রু এমন চড়াও হতে পারে। কিন্তু উল্টো তারা আমার ওপর দায় চাপাচ্ছে।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, আদালতের ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক বলেন,‘বুধবার সৈয়দপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে মিমাংসায় বসি। কিন্তু উভয় পক্ষ ঐক্যমতে সম্মত না হওয়ায় মিমাংসা হয়নি। আজকে (বৃহস্পতিবার) তারা উভয় পক্ষ আদালতে জামিন নিতে আসেন। তাদের হাতাহাতি হওয়ার খবরটি আমি পরে পেয়েছি। তবে আনোয়ার হোসেন ছাড়া তার পক্ষের ও বিপক্ষের সকলে আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।’
উল্লেখ, আগামী ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় জনসভায় যোগ দিতে রংপুরে আসছেন। তার আগে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটির দুটি পক্ষের মধ্যে এ রকম পাল্টাপাল্টি হামলা ও মামলার ঘটনায় দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।