• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

পুলিশ দেখে পালানোর সময় যুবদল নেতার মৃত্যু

সিসি নিউজ ডেস্ক।। বগুড়ার শাজাহানপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেখে পালানোর সময় ফোরকান আলী (৪৭) নামে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া ফোরকান আলী শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক। তিনি ঘাসিড়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখে পালাতে গিয়ে মারা যাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

শাজাহানপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আজ রোববার সকাল ৭টার দিকে আমরা বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে সাজাপুর এলাকায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করি। মিছিলে খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ফোরকান আলীও অংশগ্রহণ করেন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ও র‍্যাবের টহল গাড়ি মহাসড়ক দিয়ে মিছিলের কাছাকাছি আসলে আমরা যে যার মতো পালাতে শুরু করি। ফোরকান আলী তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে সাজাপুর-ফুলতলা মাদ্রাসার পেছনের গ্রামীণ সড়ক দিয়ে পালানোর সময় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

ফোরকান আলীর ছোট ভাই ওমর ফারুক বলেন, ‘আমার ভাই সাজাপুর এলাকায় একটি পেপার মিলে চাকরি করে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশে মোটরসাইকেল নিয়ে থেকে বাড়ি বের হয়। পথিমধ্যে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মারা যায়।’

ফোরকানের বাবা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ফোরকান সাজাপুর এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করত। অন্য দিনের মতো সে কারখানায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে গিয়েছিল কি না তা আমরা দেখি নাই। অসুস্থ হলে তার সঙ্গে থাকা লোকজন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে হৃদ্‌রোগজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়। ফোরকার আগে থেকেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ছিল।’

খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ রোববার অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার পর সে অসুস্থ হয়ে যায়। তখন সঙ্গে থাকা অন্যরা তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম  বলেন, ‘সাজাপুর এলাকায় মিছিলের খবর আমাদের কাছে নাই। ফোরকান আলীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে তাঁর বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানায় ফোরকান আলী আগে থেকেই হৃদ্‌রোগী ছিলেন। তারপরও ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পুলিশ হেফাজতে নেওয়া কথা বলা হলে পরিবারের সদস্যরা আপত্তি জানায়। এ কারণে লাশ নিয়ে আসা হয়নি।’

ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী ইসমাইল ও ফজর আলী বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিএনপির লোকজন কেউ মোটরসাইকেলে, কেউ সিএনজিতে মাদ্রাসার পেছন দিয়ে পালাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে মোটরসাইকেল থেকে একজন পড়ে যায়। পরে তাকে আরেকটি সিএনজিযোগে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যায়।’

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) স্নিগ্ধ আখতার  বলেন, ‘মহাসড়কের সাজাপুরে বিএনপি মিছিল করেছে বলে শুনিনি। পুলিশও ওই দিকে যায়নি।’

উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ