সিসি নিউজ।। নীলফামারীর ডোমারে স্ত্রীর গলা কেটে পালানোর সময় স্বামী মো. নুরুন নবীকে (২৮) এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করছে। গত সোমবার রাতে জেলার ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
স্থানীয়রা জানায়, প্রেমের সম্পর্ক ধরে পাঁচ মাস আগে ডোমার উপজেলার পশ্চিম বোড়াগাড়ি গ্রামের মো. আজিজুল ইসলামের মেয়ে শিল্পী আক্তারে (২৩) সঙ্গে নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের তছির উদ্দিনের ছেলে নুরুন নবীর বিয়ে হয়। তারা রাজধানীর একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ওই বিয়ে উভয়ের পরিবার মেনে নেয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে দুইদিন আগে শিল্পী আক্তার স্বামীর বাড়ি থেকে তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। স্ত্রীর অভিমান ভাঙাতে সোমবার সন্ধ্যায় শ্বশুড় বাড়িতে যায় নুরুন নবী। রাত নয়টার দিকে খাবারের সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুন নবী রান্না ঘরে থাকা তরকারী কাটা বঠি দিয়ে স্ত্রীর গলায় ও কাধে আঘাত করে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ্দ করে।
আহত শিল্পী আক্তারকে দ্রুত উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয় পরিবার। পরে সেখান থেকে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শিল্পী আক্তারের বাবা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার কিছু সময় আগে আমি মাহিগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি আসি। জামাই নুরুন নবী আমার সঙ্গে ভালো ভাবেই কথা বললো। এ সময় আমার মেয়ে তাকে রাতের ভাত খেতে ডাকে। কি হতে কি হলো বুঝার আগেই দেখি রক্তাত্ত্ব অবস্থায় আমার মেয়ে চিৎকার করছে, আর জামাই দৌঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এরপর গ্রামের মানুষজন তাকে আটক করে পুলিশে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুরে আমার মেয়ের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় আমি রাতেই ডোমার থানায় মামলা করেছি।’
মঙ্গলবার বিকালে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নূরুন নবী তার স্ত্রীর গলা কেটে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক হয়েছে। এ ঘটনায় আহত শিল্পী আক্তারের বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। নুরুন নবীকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে’।