• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন |

বাড়ছে দেশী-বিদেশী বিমান ভাড়া

বিমানসিসি ডেস্ক: দেশী-বিদেশী সব এয়ারলাইন্সকে ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অ্যারোনটিক্যাল চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হবে। গত বছর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যদিও ভ্যাট আরোপের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করে একাধিক এয়ারলাইন্স। যা সম্প্রতি খারিজ করে দেন আদালত। ফলে বিমান ভাড়া বাড়বে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন্সগুলো।
জানা গেছে, বিমান ল্যান্ডিং, পার্কিং, রুট নেভিগেশনসহ বিভিন্ন অ্যারোনটিক্যাল খাতের মাশুল বাবদ এয়ারলাইন্সগুলো অর্থ পরিশোধ করে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে। এসব চার্জের ওপর গত বছর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে এনবিআর। পাশাপাশি এয়ারলাইন্সগুলোকে ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বকেয়া ভ্যাট পরিশোধের আদেশও দেওয়া হয়।
এ রায়/আদেশের সার্টিফাইড কপি গত ১ মার্চ দেওয়া হয়। যা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সিভিল এভিয়েশনে পাঠানো হয় ৩০ জুন। ফলে অ্যারোনটিক্যাল চার্জে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়ে কোনও বাধা নেই।
হাইকোর্ট থেকে রায়ের কপি পাওয়ার পর দেশী-বিদেশী যেসব এয়ারলাইন্স অ্যারোনটিক্যাল সেবা নেয় তাদের চিঠি দিয়েছে সিভিল এভিয়েশন। ভ্যাট আদায়ের জন্য দেশের সব বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দিয়েছে সিভিল এভিয়েশন।
জানা গেছে, অ্যারোনটিক্যাল চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ এবং বকেয়া ভ্যাটের কারণে বিপাকে পড়েছে এয়ারলাইন্সগুলো। বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে বকেয়া ভ্যাট নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে দেশী-বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর।
এ বিষয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের এয়ারলাইন্সগুলো বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করে ব্যবসা করছে। বিমানের সব ধরনের যন্ত্রাংশই আমদানি করতে হয়। সেসব যন্ত্রাংশ আমদানি করতেও ভ্যাট দিতে হয়। বাড়তি ভ্যাটের কারণে পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে। ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় বাড়বে।
বাংলাদেশে ওমান এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজে খন্দকার এ কবির বলেন, ‘এটি বাস্তবায়ন হলে যাত্রীদের খরচ বেড়ে যাবে। আমার জানা মতে, বিশ্বের অন্য কোনও দেশে অ্যারোনটিক্যাল চার্জে মূসক দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই।’
নভো এয়ারের ম্যানেজার (মাকেটিং) মাহফুজুল আলম বলেন, ‘সরকার ভ্যাট আরোপ করলে আমরা দিতে বাধ্য। কিন্তু এই ভ্যাট আরোপের ফলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো বাড়তি চাপের মধ্যে পড়বে। যাত্রীদের ভাড়া বাড়বে, ফলে ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।’
এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পরিচালক (এটিএস) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রায়ের পর সব এয়ারলাইন্সকে বকেয়া ভ্যাট পরিশোধের জন্য চিঠি দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে জবাব পেলে এনবিআরকে দেওয়া হবে। এছাড়া, যেসব এয়ারলাইন্স ২০০৯ সালে অপারেশনে ছিল এখন নেই তাদের বিষয়ে কী হবে জানতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়া হবে।’
এদিকে কোনো এয়ারলাইন্স ভ্যাট পরিশোধে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি) ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভ্যাট পরিশোধে আদেশ জারি করা হয়েছে। কোনও এয়ারলাইন্স তা না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ