খেলাধুলা ডেস্ক: ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনার কোনো ক্লাব নয়, কোপা লিবার্তাদোরেসের শিরোপা জিতেছে কলম্বিয়ান ক্লাব অ্যাটলেটিকো ন্যাসিওনাল। নিজেদের ইতিহাসে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো লাতিন-শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল তারা।
কলম্বিয়ার মেদেলিনে ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ন্যাসিওনাল ১-০ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডরের ইন্দিপেনদিয়েন্তেকে। প্রথম লেগ ১-১ হয়েছিল।
১৯৬০ সালে চালু হওয়ার পর থেকে লাতিন ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের এই প্রতিযোগিতা বেশির ভাগ সময়ই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কিংবা উরুগুয়ের ক্লাবগুলোর দাপট দেখিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের মানচিত্র যে বদলে যাচ্ছে, জাতীয় দল হিসেবে চিলির উত্থান, বাছাইপর্বে নিচু সারির দলগুলোর দাপটের পর এবার ক্লাব ফুটবলেও দেখা গেল অন্য ছবি।
এই প্রথম লিবার্তাদোরেসের ফাইনালে এই অঞ্চলের তিন পরাশক্তি কোনো দল খেলতে পারেনি। আগে যেটা কখনোই হয়নি।
নবম মিনিটেই ন্যাসিওনালকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মিগুয়েল বোরজা। ওই একটা গোলেই ১৯৮৯ সালের পর প্রথমবারের মতো কোপা লিবার্তাদোরেসের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত। ইন্দিপেনদিয়েন্তে না পারলেও ফাইনাল পর্যন্ত তাদের উঠে আসার গল্পটাও চমক–জাগানিয়া।
মাত্র সাত বছর আগেই ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পা রাখা এই ক্লাবই ফাইনালে ওঠার পথে হারিয়েছে আর্জেন্টিনার বোকা জুনিয়রস ও রিভার প্লেটের মতো দৈত্যদের। ওদিকে ন্যাসিওনালের ফাইনালের নায়কের গল্পটাও কিন্তু কম চমকের নয়।
২৩ বছর বয়সী নায়ক বোরজা গত জুনেই নাম লিখিয়েছিলেন ন্যাসিওনালে। ২০১৩ সালে ইতালীয় ক্লাব লিভোরনোতে গেলেও সেখানে একেবারেই ভালো করতে পারেননি। পরের বছরই ধারে খেলতে আসেন কলম্বিয়ার ক্লাব সান্তা ফেতে। সেখানে ৩৩টি ম্যাচে গোল করেছিলেন ১০টি।
এরপর কর্তুলুয়ার হয়ে ২১ ম্যাচে ১৯ গোলের সাফল্যই তাঁকে নিয়ে আসে ন্যাসিওনালে। এমন একটা সময় তাঁকে দলে নেওয়া হয়, যখন চলছে কোপা লিবার্তাদোরেসের সেমিফাইনালের লড়াই। ন্যাসিওনালের জার্সি গায়ে সেমিফাইনালেই প্রথম খেলতে নেমেই নায়ক হয়ে যান। দলের ফাইনাল-যাত্রায় বড় ভূমিকা তাঁর। ব্রাজিলীয় জায়ান্ট সাও পাওলোর বিপক্ষে দুই লেগেই দুটি করে গোল করেছিলেন। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের চার ম্যাচে বোরজা করেছেন পাঁচ গোল!
কোপা লিবার্তাদোরেস জিতে এ বছরের শেষে জাপানে অনুষ্ঠেয় ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করল ন্যাসিওনাল।
সূত্র: এএফপি।