• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ অপরাহ্ন |

সৈয়দ হকের মৃত্যুতে তসলিমার প্রশ্ন ‘ক’ নিয়ে

সিসি ডেস্ক: সব্যসাচী লেখক 246657_1সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুকে শোকাহত বিতর্কিত নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে তাকে নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য তসলিমার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘সৈয়দ শামসুল হক মারা গেছেন ৮১ বছর বয়সে। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মান, সম্মান, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, প্রচার, জনপ্রিয়তা সবই পেয়েছেন তিনি। একজন লেখকের জন্য যা যা কাংখিত থাকতে পারে, তা পাওয়া হয়ে গেলে তাঁকে সফল বা সার্থক লেখকই বলা যায়। সৈয়দ শামসুল হকের সঙ্গে আটের দশকের শেষদিকে ভালো যোগাযোগ ছিল আমার। মাঝে মধ্যে ময়মনসিংহে গেলে আমার সঙ্গে দেখা করতেন। একবার আমার সাহিত্য সংগঠন ‘সকাল কবিতা পরিষদ’ এর অনুষ্ঠানে তাঁকে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তিনি গিয়েছিলেন। ভালো বক্তৃতা করেছিলেন। আমার সাহিত্যচর্চার বেশ খবর নিতেন তিনি। আমার লেখা কবিতাগুলো মন দিয়ে পড়তেন, মন্তব্য করতেন। তিরিশ বছরের বড় ছিলেন , আমাকে কন্যার মতো স্নেহ করেন বলতেন।

’খেলারাম খেলে যা’র বিখ্যাত লেখকের সঙ্গে একসময় যোগাযোগ সম্পূর্ণই বন্ধ করে দিই। সে অনেক গল্প। ’ক’ বইটিতে সেইসব ভালো-মন্দের স্মৃতি অনেকটাই আছে।

আজ তিনি চলে গেলেন, কাল আমরা যাবো। জীবনের এই তো নিয়ম। এক এক করে আমাদের সবাইকে যেতে হবে। আমাদের মধ্যে ক’জন আশি পার করে যেতে পারবো সেটাই কথা। এখন যে জরুরি বিষয়টি আমি জানতে ইচ্ছুক সেটি হলো, তিনি যে ‘ক’ বইটিকে হাইকোর্ট থেকে নিষিদ্ধ করার ব্যবস্থা করেছিলেন, সেটির কী হবে? বারো বছর পার হয়ে গেছে, এখনও কি বইটি নিষিদ্ধ রয়ে যাবে? নাকি বাদির অনুপস্থিতিতে বইটি এখন মুক্তির স্বাদ পেতে পারে! সৈয়দ হক ১০০ কোটি টাকার মামলা করেছিলেন আমার বিরুদ্ধে। এটির কোনও শুনানি হয়েছে বলে শুনিনি। এই মামলাই বা কী অবস্থায় আছে কে জানে। তিনি কি পাওয়ার অব এটর্নি দিয়ে গেছেন কাউকে? যদি দিয়ে থাকেন, তাহলে পাওয়ার অব এটর্নিও কি বইটি নিষিদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করবেন?

মত প্রকাশের অধিকারের পক্ষে গত তিন দশক লড়ছি। মনে হচ্ছে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত এ নিয়েই লড়তে হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ