নারায়নগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনের সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে জানিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ফের সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানালে আইভী বলেন, আমার কোনও ক্যাডার বাহিনী নেই। এখানে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আর নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন নয়। এটি একটি স্থানীয় নির্বাচন।
আজ বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে নির্বাচন কমিশন আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় সেলিনা হায়াৎ আইভী এসব কথা বলেন। সভায় বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াতও উপস্থিত ছিলেন। মত বিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি আছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় ওই সভা চলছিল।
এ সময় সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অবশ্যই সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন। এখনো ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। ফলে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অবশ্যই সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন। এছাড়া আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী আনসারের জ্যাকেট পড়ে নির্বাচন কেন্দ্রগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে। পুলিশ ও র্যাব বাহিনীর অনেক সদস্যও প্রভাব বিস্তার করেন।
মত বিনিময় সভায় সাখাওয়াত হোসেনের ভয়কে উড়িয়ে দিয়ে আইভী আরো বলেন, ২০১১ সালের নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলাম না। তখনো আমার কোনো ক্যাডার বাহিনী ছিল না, এখনো নেই। আমার দলের কোনো নেতাকর্মী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে না। ফলে সেনাবাহিনী নামানোর মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নি।
আইভী আরো বলেন, আমি যদি নির্বাচনে পরাজিত হই, পরের দিন সকালে সাখাওয়াত ভাইয়ের বাসায় নাস্তা আর মিষ্টি খেতে যাবো। আর নায়ারণগঞ্জের মানুষ যদি আবারো আমাকে জয়যুক্ত করেন তবে আপনি নিশ্চয় আমার বাসায় আসবেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় আমি আমার প্রতিদ্বন্ধীদের সঙ্গে খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছি। মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে নিজ থেকে গিয়ে কুশল বিনিয়ম করেছি। এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী বিএনপির কোনো নেতাকর্মী হিুমকি দিয়েছে এমন কোনো অভিযোগও করতে পারবেন না।
আইভী আরো বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে কালোটাকার ছড়াছড়ি হতে পারে। এদিকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সজাগ ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক ছাড়াও র্যাব, বিজিবি, নৌবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।