• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে ওএসডি

রংপুর, ২৮ মার্চ: রংপুর কারমাইকেল কলেজে অধ্যক্ষ’র অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষকদের আন্দোলনের দেড় মাসের মাথায় কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবদুল লতিফ মিয়া ও উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ওএসডি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে(মাউশি) তাদের দুজনকেই বদলি করা হয়। অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মিয়ার বদলীর খবরের কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উল্লাস প্রকাশ করেছে। তবে, উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশে তারা হতাশ হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব ফাতেমা-তুল-জান্নাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই আদেশের কথা জানানো হয়। তবে কে হচ্ছেন পরবর্তী কারমাইকেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ তার নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

কলেজ সুত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর ভায়রা ও কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মিয়ার নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণের ফলে অধ্যক্ষ’র অপসারণ দাবিতে ১০ ফেব্রয়ারি থেকে শিক্ষকরা অবস্থান ধর্মঘট ও কালো ব্যাজ ধারণ কমসুচি পালন করে আসছে। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা কলেজে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর ঢাকার পরিচালক(প্রশিক্ষক) অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক। তদন্ত দলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মানবসম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন। কমিটির সবাই ১৯ ফেব্রয়ারি কারমাইকেল কলেজে আসেন। এরপর দ’ুদিন অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারি ও কলেজের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের লিখিত বক্তব্য নেন। তাদের তদন্তের ভিত্তিতেই কলেজ অধ্যক্ষ ড. আবদুল লতিফ মিয়া ও উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের চাকুরি মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত এবং অধ্যক্ষ ড. আবদুল লতিফ মিয়ার আগামী আগস্ট পর্যন্ত রয়েছে।

এদিকে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে অন্যত্র বদলি করায় সাধারণ শিক্ষার্থীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন আগের মতই ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে, উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশে তারা মর্মাহত। কারণ অধ্যক্ষের দুর্নীতির দায়ে উপাধ্যক্ষকেও শাস্তি দেয়া উচিৎ হয়নি।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মিয়া জানান, এখনও বদলির চিঠি পাইনি, তবে শুনেছি। চিঠি পেলেই সে অনুযায়ী যোগদান করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ