• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন |

‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রাজনৈতিক অপশক্তি মদদ দিচ্ছে’

ঢাকা, ০৪ আগষ্ট: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। রাজনৈতিক অপশক্তি মদদ দিচ্ছে, সেটা আমরা খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করছি, আমাদের বিভিন্ন সংস্থা লক্ষ্য করছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেউ দলীয়ভাবে সমর্থন দিয়েছেন, এটাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ দিতে চেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা ধৈর্য ধরে যাবো। আমাদের বিশ্বাস ছাত্রছাত্রীরা আস্তে আস্তে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। আরো দুই একদিনের মধ্যে হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত দলের সম্পাদকমন্ডলীর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কাদের এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে থেকে কেউ যাতে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে তার জন্য অনুপ্রবেশকারীদের গতিবিধি গোয়েন্দাবাহিনী লক্ষ্য রাখছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নয়টি দাবি আমলে নিয়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। মালিক-চালক-হেলপার বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। আমরা মনে হয়, এর মধ্য দিয়ে এ পরিস্থিতিতে সরকার তার জরুরি কাজটি করে ফেলেছে। দুই পরিবারকে ডেকে সান্ত্বনা দিয়েছে, সহায়তা করেছে। দুই পরিবারের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। ওই দুই পরিবারও শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে দুর্ঘটনা কবলিত এলাকায় আন্ডারপাস করার কাজও করা হচ্ছে, এটি সেনাবাহিনী করছে। স্পিড ব্রেকারের দাবির প্রেক্ষিতে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে রাম্বলস্ট্রিটও করা হবে। ফিটনেসবিহীন সব গাড়ির রুট পারমিট বাতিল করা হবে। ইতোমধ্যে বিআরটিএ এর কাজও শুরু করেছে।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়েছি। এগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। তাদের প্রতিবাদের কণ্ঠকে স্বাগত জানিয়েছি। এখানে কোনো গোপনীয়তা নেই।

যারা শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরতে বলেছেন, তাদের শুভবোধকে স্বাগত জানিয়ে কাদের বলেন, যারা কোমলমতিদের আন্দোলনে ঢুকে রাজনীতির বিষবাষ্প দিতে চেয়েছেন, নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছেন, এদের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দমন না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ ধৈর্যধারণ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কোনো দমনমূলক পদক্ষেপ এই ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ওপর নেয়া যাবে না। সেই কারণে পুলিশ নানান অপদস্থ এবং হয়রানির শিকার হয়েও রাজনৈতিক অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখাচ্ছে।

বিএনপি সেতুমন্ত্রীর পদত্যাগের যে দাবি করেছে তার জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির মতো নালিশ পার্টির টপ টু বটম নেতারা পদত্যাগ করলে দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে। বিএনপি নামক একটি নালিশ পার্টি আছে। এরা জনগণ থেকে ক্রমান্বয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। ফখরুলসহ প্রথম সারির নেতারা পদত্যাগ করলে দেশের মানুষ মুক্তি পায়, বিএনপির নেতারাও মুক্তি পায়।

বাস চালক ও শ্রমিকদের অঘোষিত আন্দোলনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, শঙ্কায় চালকরা নামতে চাইছে না। আমরা নামাতে চেষ্টা করছি।

সভায় দলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ অংশ নেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ