সিসি নিউজ ।। সরকারি বরাদ্দকৃত সার না পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের কৃষকরা। আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কাশিরাম ইউনিয়নের হাজারীহাটের ডিলার পয়েন্টে উপস্থিত হয়ে তারা ট্রাক থেকে সার আনলোডে বাধা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৫ বছর যাবত ডিলার পয়েন্টে ডিলার সার বিতরণ না করে কালো বাজারে বিক্রি করে দেয়। ফলে কৃষক বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে সার কিনে জমিতে ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা পরে কৃষি বিভাগ ও পুলিশের হস্তক্ষেপে কৃষকদের সার দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে পরজা পাড়ার মো. রনজু, হুগলিপাড়ার জোবাইদুল ইসলাম, জেলে পাড়ার অনীল চন্দ্র দাস, হাজারীহাটের পাকাধরার ইলিয়াস চৌধুরী ভলু অভিযোগ করেন যে, বিসিআইসি’র হাজারীহাটের রাসায়নিক সার ডিলার মেসার্স লাকী ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী মিসেস সালেহা বেগম সার উত্তোলন করে কালো বাজারে সার বিক্রি করে দেন। সে কারণে তার কাছ থেকে এলাকার কোন কৃষকই সার পান না। সরকার সার বরাদ্দ দেয় কৃষকদের। অথচ ডিলাররা তা তসরুফ করে সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে এ এলাকার কৃষকদের।
কৃষকরা আরো জানান, এবারও সেইভাবে সার তুলে গুদামজাত করার খবর পেয়ে এলাকার কৃষকরা সমবেত হয়েছি। আগে আমাদেরকে সার দিতে হবে। তারপর গুদামে রাখা হোক। কারণ গুদাম থেকে এসব সার গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হবে এটা নিশ্চিত। কারণ ডিলার গতকাল সোমবার হাজারীহাটের আব্দুস সালামের দোকান ভাড়া নিয়েছে মাত্র এক মাসের জন্য। এরপর হয়তো সে আবারও গা ঢাকা দিবে। তারা শহরে থাকে। আমরা তাদের কখনোই কাছে পাইনা।
এমতাবস্থায় ট্রাক থেকে আনলোড করতে না পেয়ে ডিলার সালেহা বেগমের ছেলে প্রিন্স মাহমুদ বিষয়টা কৃষি বিভাগকে জানালে উপজেলা কৃষি অফিসার শাহিনা বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মমতা সাহা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেয়ে থানায় খবর দেয়া হয়। পরে সৈয়দপুর থানার এসআই রেজাউল করিম সঙ্গীয় ফোর্স সহ এসে ৩ ঘন্টা পর সন্ধ্যা ৬টায় পরিস্থিতি সামাল দেয়।
ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল চৌধুরী বুলবুল বলেন, কৃষি অফিসের লোকজনের কারণেই ওই ডিলার এমন ঘাপলা করার সাহস পেয়েছে। কৃষকের সার পয়েন্টে না আনার পরও কিভাবে তার ডিলারশীপ বহাল তা খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার। কয়েক দিন যাবত কৃষকরা তাদের সমস্যার কথা আমাকে জানান। তাই কৃষকদের কথা ভেবে বিভিন্ন অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। তারই প্রেক্ষিতে কৃষি অফিস এবার বাধ্য হয়ে ডিলার পয়েন্টে সার নিয়ে এসেছে। এখন এই সার কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে বিতরণ করে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহুবুবর রহমান জানান, ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে দীর্ঘ তিন বছর থেকে আছি। কিন্তু কোন দিন ডিলারদের সার বিতরণ করতে দেখিনি। ডিলারদের নাম ও তালিকা জানি কিন্তু তাদেরকে চিনি না। এ ইউনিয়নে চওড়া বাজার ও সিপাইগঞ্জ বাজারের ডিলার পয়েন্টেও ওই একই অবস্থার কথা জানান তিনি।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা সার-বীজ বিতরন ও মূল্যায়ণ কমিটির সদস্য সচিব শাহিনা বেগম জানান, কৃষকরা সার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এ অভিযোগটা সঠিক নয়। এতোদিন তাহলে ওই এলাকার কৃষকরা কিভাবে সার পেয়েছে? আসলে ওই ডিলার নিজের পয়েন্টে সার বিক্রি না করে অন্য একটি দোকানে বিক্রি করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলায় ১৫জন ডিলার রয়েছে। অন্যান্য ডিলারদের সার বিতরনের কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতি মাসে চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ দেয়া হয়। সে অনুযায়ী ৫ টন (১০০ বস্তা) বরাদ্দ পেয়েছে এই ডিলার। এবার অবশ্যই কৃষকদের সার দেয়া হবে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ বিতরন ও মূল্যায়ণ কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, কৃষকরা বিসিআইসি’র ডিলারের কাছ থেকে সার পাচ্ছেনা- এমন অভিযোগ তিনি পাননি এবং বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। ডিলার নির্দিষ্ট পয়েন্টে প্রাপ্ত সার বিক্রি না করলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সৈয়দপুরের এ ঘটনাটি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।