• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কয়লার দাম বৃদ্ধিতে বন্ধ হয়ে গেছে ইটভাটা

।। সিসি নিউজ ।। কয়লার দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে চলতি মৌসুমে ইট তৈরির কাজ বন্ধ রেখেছে নীলফামারীর ৬৪টি ইটভাটা। এতে সকল শ্রেণির ইটের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ইট সংকটের মুখে পড়েছে আবাসন খাতসহ উন্নয়ণ প্রকল্প কাজের ঠিকাদাররা। ভাটা মালিকদের অভিযোগ ভারত, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা ও রাশিয়া থেকে আমদানিকৃত কয়লার বাজার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে দফায় দফায় দাম বাড়ছে। তাই এ খাতে বিনিয়োগের ঝুঁকির আশংকায় ভুগছেন তারা।

সূত্র মতে, বিগত বছর প্রতি টন কয়লা ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রয় হয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত দফায় দফায় দাম বেড়ে প্রতি টন কয়লা বিক্রয় হয়েছে ১৩ হাজার টাকায়। অক্টোবর মাসে আবারো দাম বেড়ে তা ১৮ হাজার এবং বর্তমানে ওই কয়লা ২৩ হাজার থেকে সাড়ে ২৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নীলফামারীর বিভিন্ন ভাটায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত অক্টোবর মাসে প্রথম শ্রেণির ইটের দাম হাজার প্রতি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ইট সংকটের মুখে তা সাড়ে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই ভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির ইট ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার, তৃতীয় শ্রেণির ইট সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার এবং পিকেট ইটের দাম ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুসা ব্রিকস সৈয়দপুর- এর মালিক মোস্তফা ফিরোজ জানান, সাধারনত শীত মৌসুমে ইট উৎপাদনে যায় ভাটা মালিকরা। কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইট তৈরির কাজেই হাতগুটিয়ে বসে আছি। এতে সহস্রাধিক শ্রমিক বর্তমানে বেকার অবস্থায় বসে আছে। অথচ ওইসব শ্রমিকদের অগ্রিম টাকা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কয়লার দাম যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, এ অবস্থায় নতুন ইট তৈরি করলে তা হাজার প্রতি ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হবে। এতে সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।

নীলফামারীর প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার নুরল ইসলাম শাহ জানান, ভাটাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় চরম ইট সংকট দেখা দিয়েছে। গত বছরের উৎপাদিত যেসব ইট মজুত ছিল, তা বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করে প্রকল্পের কাজ চলমান রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ভাটা মালিকরা ইট উৎপাদনে না যাওয়ায় চরম সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে। শীঘ্রই এ পরিস্থিতির অবসান না ঘটলে ব্যাহত হতে পারে স্থানীয় আবাসন খাতসহ সকল উন্নয়ণ কার্যক্রম।

বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক সমিতি নীলফামারী জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক হারুন উর রশিদ এ ব্যাপারে জানান, কয়লার লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির কারণে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভাটা মালিকদের ইট উৎপাদনে না যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই সংগঠনের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমরা ইট উৎপাদনের প্রস্তুতিও নিতে পারছি না। তিনি বলেন, ভাটাগুলো বন্ধ থাকায় মালিকরা যেমন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি কর্মহীণ হয়ে বসে আছে ভাটা শ্রমিকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ