সিসি নিউজ ডেস্ক ।। বাংলাদেশের ছেলেদের ক্রিকেট যখন ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দী, তখন একের পর এক সাফল্য বয়ে আনছে মেয়েরা। এবার তো সবচেয়ে বড় সুখবরটা এল আইসিসির তরফ থেকে।
বাছাই-বাধা পেরিয়ে প্রথমবার ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিল বাংলাদেশ নারী দল। আগামী বছর নিউজিল্যান্ডে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরে খেলতে যাচ্ছেন নিগার সুলতানা-জাহানারা আলম-সালমা খাতুনরা। খুশির খবর আছে আরেকটি। প্রথমবার নারীদের ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচে উঠেছে বাংলাদেশ। আজ বিকেলে আইসিসি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ‘বি’ গ্রুপ পড়া বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত খেলা তিন ম্যাচের দুটিতে জিতেছে। নিগারের দল শুরুরা করেছিল শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে বাংলাদেশ রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতেছে। মার্কিন মেয়েদের বিপক্ষে ২৭০ রানের বিশাল জয়ের দিনে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ানডে মর্যাদা না থাকায় শারমিনের সেঞ্চুরিটি লিস্ট ‘এ’-এর রেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে আইসিসি।
পরের ম্যাচে অবশ্য থাইল্যান্ডের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। তবে গ্রুপে নেট রান রেটে বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকায় বিশ্বকাপে জায়গা করে নিলেন নিগাররা।
বাংলাদেশের সুখবরের দিন দুঃসংবাদ পেয়েছে অন্যরা। জিম্বাবুয়েতে চলমান ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে হানা দিয়েছে করোনা। প্রাণঘাতি ভাইরাসটির নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে আজ হারারেতে হতে যাওয়া শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে থাইল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচটি যথাসময়েই শুরু হয়েছে।
শুধু শ্রীলঙ্কা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ বাতিল নয়ই, পুরো বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব নিয়েই একপ্রকার অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাছাইয়ের স্বাগতিক জিম্বাবুয়েসহ আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোতে করোনার নতুন ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গত মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কা দলের তিনজন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। সেদিন তাদের ম্যাচ ছিল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। তিনজন করোনায় আক্রান্ত হলেও সেদিন ঠিকই মাঠে গড়িয়েছিল ম্যাচ। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ম্যাচে ৩৪ রানে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা।
কিন্তু গত তিন দিনে জিম্বাবুয়ে ও আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোতে করোনা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছে গেছে। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনকে এরই মধ্যে চিন্তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, যা সর্বপ্রথম এই অঞ্চলেই ধরা পড়েছে।