সিসি নিউজ: উজানে ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহড়ী ঢলে শুক্রবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নদীর পানি আকষ্মিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর র্তীরবর্তী নীলফামারীর দুই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ২৫টি চরগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ১০ হাজার মানুষ হাটুসমান পানিতে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। যা সকাল ৯টার দিকে তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপড় দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে বেলা ১২টার পর থেকে নদীর পানি কমতে থাকে যা দুপুর তিনটার দিকে নদীর পানি সাত সেন্টিমিটার কমে বর্তমানে ব্যারাজের বিপদ সীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এলাকায় বৃষ্টিপাত না হলেও তিস্তার উজানে ভারী বৃষ্টিপাত আর পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে শুক্রবার সকাল থেকে নদীর পানি বৃদ্ধি হতে থাকে যা বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বিকাল থেকে নদীর পানি আরো কমে যাবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের সব ক’টি জলকপাট খলে রাখা হয়েছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ জানান, র্দীঘ দিন থেকে এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়নি। কিন্তু শুক্রবার সকালে তিস্তা নদীর পানি হঠ্যাৎ বেড়ে যাওয়ায় নদীর র্তীরবর্তী
পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের ২৫টি চরগ্রাম প্লাবিত হয় নদীর পানিতে।
এসব গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ সকাল থেকে হাঁটু সমান পানিতে পানি বন্দি থাকলেও দুপুরের পর থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করায় এসব গ্রামের পানিও নামতে শুরু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।