সিসি ডেস্ক: তৃণমূলে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৪৫টি পৌরসভার নির্বাচন। সরব হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। প্রার্থীদের অনেকেই জোরোশোরে মাঠে নেমেছেন। চায়ের কাপে ঝড় তুলছেন, ভোটারদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে চলছে প্রার্থীদের জোর তদবির। মতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও মাঠে নেই ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। জোটের নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ কারাগারে এবং বাকিরা পুলিশি হয়রানি এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ইসি সূত্র জানায়, আগামী মাসেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে দেশের আড়াই শতাধিক পৌরসভার। তাই আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের অক্টোবর থেকে নির্বাচনের উপযোগী হচ্ছে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে ইসিকে। এ নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। যদিও ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ৩৬ কোটি টাকা।
এ দিকে পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও প্রস্তুতি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার ও ব্যানার সাঁটিয়েছেন তারা। পাশাপাশি তৃণমূলের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে গণসংযোগ, দলীয় ও স্থানীয় সভা-সমাবেশ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি দলীয় সমর্থন পেতে আগেভাগেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিনিয়র নেতাদের আস্থাভাজন হওয়ারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এই নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্তের ফলে প্রার্থী হতে খোদ সরকারদলীয়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা সামাল দেয়া কঠিন হবে। সে েেত্র সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নির্বাচন বোর্ড করে দেয়া হবে। ওই বোর্ডে একজন করে কেন্দ্রীয় নেতা থাকবেন। বোর্ডই প্রার্থী ঠিক করবে। বিদ্রোহী প্রার্থীর সুযোগ থাকবে না।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে এ নির্বাচন করতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে ইসিকে। হাতে রয়েছে আর এক মাস। এর মধ্যে নির্বাচনের সব আয়োজন সম্পন্ন করতে হবে। মন্ত্রী সভার অনুমোদন জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর সেই আলোকে বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধন করবে ইসি। সেই জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। কিন্তু সে সময় ইসির হাতে নেই। ফলে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।
নির্বাচনের উপযোগী ২৪৬টি পৌরসভা হলো-
রাজশাহী বিভাগের ৫০টি : রহনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শিবগঞ্জ, নাচোল, আক্কেলপুর, কালাই, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নজিরপুর, নলডাঙ্গা, গোপালপুর, গুরুদাসপুর, সিংড়া, বড়াইগ্রাম, নাটোর, চাটমোহর, সাঁথিয়া, সুজানগর, ফরিদপুর, ভাংগুড়া, পাবনা, ঈশ্বরদী, শেরপুর, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, সান্তাহার, কাহালু, ধুনট, নন্দীগ্রাম, শিবগঞ্জ (বগুড়া), বগুড়া, কাঁকনহাট, আড়ানী, মুন্ডুমালা, কেশরহাট, গোদাগাড়ী, তাহেরপুর, ভবানীগঞ্জ, তানোর, কাটাখালী, চারঘাট, দুর্গাপুর, নওহাটা, পুঠিয়া, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, বেলকুচি ও কাজীপুর পৌরসভা।
খুলনা বিভাগের ৩২টি : মিরপুর, ভেড়ামারা, কুমারখালী, খোকসা, কুষ্টিয়া, চালনা, পাইকগাছা, দর্শনা, জীবন নগর, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, হরিণাকুণ্ডু, শৈলকূপা, নওয়াপাড়া, মনিরামপুর, বাঘারপাড়া, চৌগাছা, কেশবপুর, যশোর, নড়াইল, কালিয়া, মোরেলগঞ্জ, মংলা পোর্ট, বাগেরহাট, মাগুরা, গাংনী, মেহেরপুর, কলারোয়া ও সাতীরা পৌরসভা।
চট্টগ্রাম বিভাগের ৩৯টি : চান্দিনা, লাকসাম, দাউদকান্দি, বরুড়া, চৌদ্দগ্রাম, হোমনা, খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙ্গা, হাজীগঞ্জ, ছেংগারচর, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি, কচুয়া, মতলব, সন্দীপ, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, মিরসরাই, পটিয়া, রাউজান, বারাইয়ারহাট, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ডু, বসুরহাট, চৌমুহনী, হাতিয়া, চাটখিল, দাগনভুইঞা, ফেনী, পরশুরাম, লামা, বান্দরবান, আখাউড়া, রাঙ্গামাটি, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও রায়পুর পৌরসভা।
ঢাকা বিভাগের ৬৮টি : কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ, হোসেনপুর, কটিয়াদী, বাজিতপুর, ভৈরব, করিমগঞ্জ, শ্রীপুর, গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, জামালপুর, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, ধনবাড়ী, মধুপুর, টাঙ্গাইল, মির্জাপুর, ভূঞাপুর, সখিপুর, গোপালপুর, কালিহাতী, ধামরাই, সাভার, তারাবো, সোনারগাঁও, মদন, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা, দুর্গাপুর, কেন্দুয়া, মাধবদী, মনোহরদী, নরসিংদী, বোয়ালমারী, নগরকান্দা, ফরিদপুর, কালকিনি, শিবচর, মাদারীপুর, সিঙ্গাইর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মিরকাদিম, মুক্তাগাছা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল, ভালুকা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ, নান্দাইল, ফুলপুর, ফুলবাড়িয়া, পাংশা, রাজবাড়ী, গোয়ালন্দ, নকলা, নালিতাবাড়ী, শেরপুর, শ্রীবরদী, নড়িয়া, ডামুড্যা, জাজিরা, ভেদরগঞ্জ ও শরীয়তপুর।
বরিশাল বিভাগের ১৯টি : নলছিটি, পিরোজপুর, স্বরূপকাঠি, কলাপাড়া, কুয়াকাটা, আমতলী, বেতাগী, পাথরঘাটা, বরগুনা, মুলাদী, গৌরনদী, মেহেন্দীগঞ্জ, বানারীপাড়া, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, বোরহানউদ্দিন, চরফ্যাশন, দৌলতখান ও ভোলা।
রংপুর বিভাগের ২০টি : কুড়িগ্রাম, নাগেশ্বরী, উলিপুর, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা, সুন্দরগঞ্জ, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, সৈয়দপুর, জলঢাকা, পঞ্চগড়, বদরগঞ্জ, লালমনিরহাট ও পাটগ্রাম পৌরসভা।
সিলেট বিভাগের ১৭টি : কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, কুলাউড়া, বড়লেখা, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, ছাতক, জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ, দিরাই, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা।