খেলাধুলা ডেস্ক: ১০৮ রানের পুঁজি পেয়ে টি-টোয়েন্টিতে জয় চাওয়া অনেকটা বিলাসিতা! কিন্তু দলে আল-আমিনের মতো বোলার থাকলে দলের চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার একটা সামঞ্জস্য থাকে। অধিনায়কের বুকের বোঝা তখন অনেকটা হাল্কা হয়ে যায়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এ আল-আমিন ঠিক অধিনায়কের চাওয়া ও পাওয়া একেবারে মিলিয়ে দিয়েছেন। হ্যাটট্রিকসহ নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।
বরিশাল বুলস ১০৮ রানের পুঁজি নিয়ে জয় পেয়েছে এক রানে। আল-আমিনের বোলিং তোপে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি সিলেট সুপারস্টার্সের টপ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা।
শুরুর প্রথম চার উইকেটই আল-আমিন নিজের পকেটে পুরেন। এরপর শেষদিকে আবারও সিলেট সুপারস্টার্সে হামলা। সব মিলিয়ে চার ওভারের বোলিংয়ে ৩৬ রানে আল-আমিন নেন পাঁচ উইকেট, যা বিপিএলে বাংলাদেশি বোলারদের সেরা মধ্যে সেরা বোলিং স্পেল। একই সঙ্গে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেট বিপিএলে পাঁচ উইকেট পান তিনি।
হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট পাওয়ার পর আল-আমিনের উল্লাস ছিল দেখার মতো। কিন্তু অর্জনটা তার আছে সামান্যই! অনুভূতিগুলো ভাষায় প্রকাশ করতে না পারলেও আল-আমিন বলছেন, এরকম পারফরম্যান্স সামনে ভালো করতে প্রেরণা জোগাবে।
ম্যাচপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হ্যাটট্রিকের অনুভূতি জানতে চাইলে আল-আমিন বলেন,‘আসলে এর আগেও করেছি, তো তাই ওভাবে কোনো অনুভূতি নেই।’
২০১৩ সালে বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টিতে ইউসিবি-বিসিবি একাদশের হয়ে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে এক ওভারে হ্যাটট্রিকসহ পেয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। ওভারের দ্বিতীয় বল বাদে প্রতিটি বলেই উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ঝিনাইদহের এই পেসার।
ইনিংসের শুরুতে অধিনায়ক কী বলেছিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে আল-আমিন বলেন,‘টার্গেট কম ছিল। অধিনায়ক নামার সময় বলেছিল যে, এখানে হারানোর কিছু নেই। পাওয়ার অনেক কিছু আছে। ওই হিসাব করেই ভালো জায়গায় বোলিং করার চেষ্টা করেছি।’
প্রথম ম্যাচে খারাপ করার পর জেদ চেপে বসেছিল যে দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো করবো। তাই দ্বিতীয় ম্যাচকে বাড়তি চাপ নিয়ে খেলে সাফল্য পেয়েছেন বলে বিশ্বাস করেন আল-আমিন। এ নিয়ে ডানহাতি এ পেসারের ভাষ্য,‘চার ওভারে ৩৯, এটা আমার নামের পাশে বেমানান। কারণ শেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজটিও ভালো গিয়েছিল। আজ আমি আমার বেসিক জিনিসগুলো করেছি। এজন্য সফলতা পেয়েছি।’