• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

বিএনপি এবার কী করে একটু দেখতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনাসিসি নিউজ: দেশে দলীয়ভাবে প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে কি না এবার একটু দেখতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বৈঠকপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে নির্বাচন প্রতিহত করার নামে মানুষ হত্যা করেছে। স্কুল পুড়িয়ে দিয়েছে। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে আসতে না পারে- সেজন্য ভয়ভীতি সৃষ্টি করে সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ড করেছে। আল্লাহর রহমতে জনগণ আমাদের সঙ্গে ছিল বলে তারা এই নির্বাচন বন্ধ করতে পারে নাই।

তিনি আরো বলেন, তাদের ভিতর আবার একটি দৈনতা আছে। মুখে বলে তারা আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না, অপরদিকে দেখা যায় স্থানীয় নির্বাচনে সব সময় অংশগ্রহণ করছে। দলীয় প্রার্থী দিচ্ছে, সমর্থন করছে। শুধু জাতীয় নির্বাচন বা উপনির্বাচন হলে সেখান থেকে বিরত থাকছে। আর বাইরে বাইরে বলে বেড়াচ্ছে-এই নির্বাচন ঠিক হবে না। তাই তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার একটু দেখতে চাই, এবার তো দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হচ্ছে। নিজ নিজ মার্কা নিয়ে। এখন নির্বাচনটা করে কি করে না সেটা দেখার বিষয় আছে। আর নির্বাচন না করলে এটা তাদের দলের জন্য ক্ষতি। এখন তারা কোন পথে যাবে, সেটা তাদের দলের বিষয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, পৌর নির্বাচনে কীভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে, যাচাই-বাচাই করা হবে, সে বিষয়টা নিয়ে আমরা আলোচনা করব এবং তার একটা ফর্মুলা বের করব। যেহেতু আমাদের গঠনতন্ত্রে জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ের ব্যাপরটা আছে। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচন যেহেতু এর আগে দলীয়ভাবে হয় নাই, তাই আমাদের একটি নীতিমালা করা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্রের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসে মূলত তারাই দেশের উন্নয়ন করে। আর আওয়ামী লীগ যেহেতু উপমহাদেশের মধ্যে প্রাচীনতম সংগঠন, তাই আওয়ামী লীগ সব সময় গঠনতন্ত্র ও নিয়মনীতি মেনে চলে। এদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং আজকে যতটুকু গণতান্ত্রিক ধারা সূচিত হয়েছে তা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়ে সূচিত করেছে।

রাজনৈতিক দলের কাছে স্থানীয় নির্বাচন একটি সুযোগ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটা বড় সুযোগ। তারা যদি নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে তারা দল গঠন করার সুযোগ পাবে। গণতন্ত্রের ধারাকে আরো সুসংহত করার জন্যই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলা যাবে না : প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘একথা কাউকে ভুললে চলবে না যে, জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল হত্যা, ক্যূ আর দখলের মধ্য দিয়ে। তার ক্ষমতা দখল অবৈধ। সে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। আর্মি রুলস এবং অ্যাক্ট ভঙ্গ করেছে। নিজেকে নিজে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিয়েছিল। শুধু তাই না একাধারে সেনাপ্রধান আবার রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে দুই রূপ নিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করে থেকেছে। যেভাবে আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে একই প্রক্রিয়া নিয়েছিল।
তাই এটা স্পষ্ট জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখল অবৈধ, এরশাদের দখল অবৈধ।তাই পঞ্চম সংশোধনী এবং সপ্তম সংশোধনী বাতিল ঘোষণা হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে যাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তাকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বলা যাবে না। আর উচ্চ আদালত যখন ঘোষণা দেয় তখন এটা সকলকে মানতে হবে।

‘এখানে সাংবাদিক বন্ধুরা আছেন। আমি জানি এটা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে যাবে। তাই আমি এটা সবার জ্ঞাতার্থেই জানাচ্ছি ‘অবৈধভাবে ক্ষমতাটা দখল করেছিল বলেই তাদের সব কাজ কর্ম কিন্তু অবৈধ ভাবেই চলে।যেটা আমরা দেখতে পাই। কারণ একটি রাজনৈতিক দল যেভাবে গড়ে উঠবে, যেভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করবে, তারা কিন্তু সেভাবে করে না। জন্মলগ্ন থেকেই দেখা গেছে শত শত মানুষ হত্যা করেছে।

অজ্ঞাত এক সাংবাদিকের সমালোচনা : প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘কোন একটি পত্রিকায় কোন এক সাংবাদিক লিখেছেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নাকি একই সাথে দুইজনের ফাঁসি হয়েছে। আসলে তাদের জন্ম হয়েছে অনেক পড়ে। তাছাড়া ইতিহাস পড়া বা এ সমস্ত ঘটনা পড়ার সময় কখনো হয়তো পায়নি। কিংবা পড়েও নি, দেখেও নি। ‘তাই আমি সকলের জ্ঞাতার্থেই বলব, এটা এই প্রথম না। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশে ১৯টি ক্যূ হয়েছে। আর ১৯টি হওয়া মানে কি? এক একটি ক্যূ হয়েছে আর জিয়াউর রহমান একই সঙ্গে মানুষকে ফাঁসি দিয়েছে। এই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির দড়িতে হয়তো একই রাতে ১০ থেকে ১৫ জন মানুষকে ফাঁসি দিয়েছে। একই রাতে ঢাকা কারাগারের সাথে বগুড়া কারগার, কুমিল্লা কারাগার, রাজশাহী কারাখার, খুলনা কারাগার, ময়মনসিংহ কারাগারেও ফাঁসি দিয়েছে। একই রাতে ১০০ থেকে ১৫০ মানুষকে ফাঁসি পর্যন্ত দিয়েছে জিয়াইর রহমান। সেগুলোর বিচার কিন্তু এভাবে হয়নি। শুধু ক্যামেরা ট্রায়াল করে- অমুক দোষী, আর ফাঁসি দিয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কালীন মা-বোনদের ওপর এদেশিয় আদবলর, রাজকার, আলশামস বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম, বর্বরোচিত ঘটনার চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে, তখন একটাই লক্ষ্য থাকে কীভাবে এদেশের মানুষের ভাগ্য গড়বো, কীভাবে উন্নত করব। কিন্তু দুভার্গ্য হল- যখনই  দেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকে। তখনই যেন একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায়।

পরে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ