প্রযুক্তি ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যে ব্যান্ড উইথ রপ্তানি স্থগিত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে এ রপ্তানি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভারত অংশের সংযোগ লাইন সংক্রান্ত জটিলতায় রপ্তানি স্থগিত করা হয়েছে।
ব্যান্ডউইথ রপ্তানিকারক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) রপ্তানি পেছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিএসসিসিএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবদুল ওয়াহাব বলেন, “ভারত অংশের সংযোগ লাইনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় রপ্তানির তারিখ পিছিয়ে গেছে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই রপ্তানি শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।”
জানা গেছে, কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা দিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় ব্যান্ডউইডথ যাওয়ার কথা ছিল। এতে প্রতি বছর বাংলাদেশের আয় হবে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা।
জানা গেছে, সংযোগ লাইন স্থাপনে বিলম্ব হওয়ায় গত আগস্টে নির্ধারিত সময়ে ভারতে ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে গত ৬ জুন ব্যান্ডউইডথ রপ্তানির বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল) ও বিএসসিসিএলের মধ্যে এ চুক্তি হয়।
গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবলের অব্যবহূত ব্যান্ডউইডথ ভারতে রপ্তানির চুক্তিতে সায় দেয় মন্ত্রিসভা। ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি হলেও এতে বাংলাদেশে কোনো সংকট হবে না বলে বিএসসিসিএল দাবি করেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ১০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইডথ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিজে সরবরাহ করা হবে। এতে বাংলাদেশ বছরে বৈদেশিক মুদ্রায় ৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা পাবে (১ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। চুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর। ভারতের চাহিদা অনুযায়ী ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি ৪০ জিবিপিএস পর্যন্ত বাড়ানো যাবে বলেও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশের একমাত্র সাবমেরিন কেবল সি-মি-ইউ-৪-এর কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়া হয়ে আগরতলা দিয়ে এ ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি হবে।
বর্তমানে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথসহ সাবমেরিন কেবলে (সি-মি-ইউ-৪) সংযুক্ত আছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৩০ জিবিপিএস। অব্যবহূত থেকে যায় ১৭০ জিবিপিএস। আগামী বছরের ডিসেম্বরে একটি কনসোর্টিয়ামের আওতায় সি-মি-ইউ-৫ বা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হবে বাংলাদেশ। ফলে অতিরিক্ত ১ হাজার ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়া যাবে।
বিএসসিসিএল সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি করবে ১০ ডলার মূল্যে। ভারত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এ অর্থ পরিশোধ করবে। ব্যান্ডউইডথ রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বিটিসিএল দেশের অভ্যন্তরে ফাইবার অপটিক লিংক প্রদান করেছে।
প্রথম আলো