সিসি ডেস্ক: প্রতিকূল পরিস্থিতির বিষয় মাথায় রেখে পৌরসভা নির্বাচনে কৌশল অবলম্বন করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারা দেশে কয়টি পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দিয়েছে দলটি তা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। এমনকি বিএনপির কাছেও এ পর্যন্ত জামায়াত তাদের দলীয় প্রার্থীদের তালিকা দেয়নি। নিবন্ধন বাতিল জটিলতার কারণে প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ায় জামায়াত প্রার্থীদের দলীয় পরিচয়ের ব্যাপারে এ কৌশল নিয়েছে। তবে আগামী ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই জোটের সমর্থনের জন্য জামায়াত বিএনপির কাছে তাদের মেয়র প্রার্থীদের তালিকা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু পৌরসভায় জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহারেরও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পৌরনির্বাচনের ব্যাপারে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে জামায়াতের দায়িত্বশীল কোনো নেতা এই মুহূর্তে নির্বাচনে দলের প্রার্থী সংখ্যা এবং ২০ দলীয় জোটের সাথে সমঝোতার ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্য বলেন, কৌশলগত কারণে আমরা এখনই নির্বাচনের ব্যাপারে কিছুই জানাতে চাইছি না। আগামী ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরই নির্বাচনের ব্যাপারে জামায়াত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে পারে বলে তিনি আভাস দেন। বিএনপির কাছে দলীয় প্রার্থীদের তালিকা দিয়ে সমর্থন চাওয়া এবং কয়টি পৌরসভা জোটগতভাবে জামায়াতকে দেয়া হতে পারে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজন মনে করলে এসব বিষয় জামায়াত সময় মতো জানাবে।
তবে জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এলাকায় সরাসরি জামায়াত নেতা হিসেবে পরিচিতদের বাইরেও এলাকায় জনপ্রিয় এবং সৎ যোগ্য হিসেবে পরিচিত এমন বেশ কয়েকজনকে দলের সমর্থন দিয়ে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটি। মেয়র পদে ৪০ থেকে ৪৫টি পৌরসভায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে। এরই মধ্যে চৌদ্দগ্রামসহ অন্য কয়েকটি পৌরসভায় জামায়াত সমর্থিত কয়েকজন মেয়র ও কাউন্সিলরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
সূত্রমতে, জামায়াত প্রায় অর্ধশত পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী দিলেও দলের টার্গেট ৩০ থেকে ৩৫টি পৌরসভা। জোটের সাথে সুনির্দিষ্টভাবে এ পৌরসভাগুলোই জামায়াত চাইবে। ইতঃপূর্বে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে জামায়াত পৌরসভা নির্বাচনেও বিপুল বিজয়ের আশা করছে। উপজেলা এবং সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে জামায়াত নেতারা শঙ্কিত। তদুপরি রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতি জামায়াতের সামনে বড় বাধা। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শীর্ষ নেতার সাজা ও ফাঁসির রায় কার্যকরের ধকল সামলাতেই জামায়াতকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের গ্রেফতার অভিযানের কারণে নেতাকর্মীদের বড় একটা অংশ জেলে এবং গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। দীর্ঘ দিন ধরে আত্মগোপন অবস্থায় জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে কেন্দ্র, মহানগর থেকে শুরু করে জেলা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত।
এ পরিস্থিতিতে দলীয় পরিচয়ে দেশের সব এলাকায় পৌরনির্বাচনে প্রচারণা চালানো জামায়াতের পক্ষে কতটুকু সম্ভব হবে তা নিয়ে নীতিনির্ধারকেরা চিন্তিত। এ জন্যই জামায়াত দলীয় পরিচয়ের চেয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করার দিকেই মনোনিবেশ করার চিন্তা করছে। তবে যেসব পৌরসভায় ২০ দলীয় জোটের সাথে সমঝোতা হবে সেসব পৌরসভায় প্রার্থিতার ব্যাপারে প্রকাশ্যে তৎপরতা চালাতে পারে দলটি।
জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তারা মনে করছেন সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের সাজা নিয়ে একের পর এক রায় কার্যকর করে জামায়াতকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। জামায়াত শুরু থেকেই এ বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে আসছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মহলও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের জনসমর্থন কমার পরিবর্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বলে তারা মনে করছেন। তাদের মতে, তার প্রমাণ গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া ৬ দফায় অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের ভালো ফলাফল। প্রথম দফার পর কার্যত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির ঘটনা ঘটলেও জামায়াত সবমিলিয়ে ২০১টি পদে জয় লাভ করে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান ৩৬টি, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) ১২৯টি ও ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) ৩৬টি পদে বিজয় লাভ করে। পৌরসভা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াতের অবস্থান ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির চিত্র আবারো ফুটে উঠবে বলে তারা আশা করছেন।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মতো জামায়াতও কেন্দ্র থেকে পৌরসভা নির্বাচনের যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করছে। একজন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যকে প্রধান করে গঠিত একটি কমিটি নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।