ঢাকা: আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী ও সমর্থকদের ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল, দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকদের মারধর, জাল ভোটসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ২৬টি পৌরসভায় পুনর্র্নির্বাচন দাবি করেছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে দলটি।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘সার্বিকভাবে পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসবের জন্য আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও তার সমর্থকরা দায়ী।’
অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ তুলে ধরে জাপার যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমরা ৭৬টি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছি। এর মধ্যে ২৬টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সমর্থকরা আমাদের প্রার্থী ও সমর্থকদের মারধর করে কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। বেশকিছু এলাকায় আমাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়। জাল ভোট পড়েছে অনেক পৌরসভায়। এভাবে ২৬টি পৌরসভায় ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
রেজাউল আরো বলেন, ‘ভোট গ্রহণ চলাকালে মারধর, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটসহ নানা কারচুপির অভিযোগে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রার্থী আনোয়ার হোসেনসহ তিন প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছে। আমাদের কালাইয়ের প্রার্থীকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। সাতকানিয়ার মেয়র প্রার্থীর স্ত্রী এবং জামালপুর সদর আসনের মেয়র প্রার্থী নিজ কেন্দ্রে ভোট দিতে পারেননি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পৌর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। এ নির্বাচনে ইসির যেভাবে ভূমিকা রাখার দরকার ছিল, তারা তা পালন করতে পারেনি। তাদের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়।’ এই ইসি দিয়ে আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, সাহিদুর রহমান টেপা, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, আরিফ খান, নুরুল ইসলাম নুরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জহিরুল আলম রুবেল, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, মনিরুল ইসলাম মিলন, পারভিন তারেক ও স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সেক্রেটারি লিয়াকত চাকলাদার প্রমুখ।