ঢাকা : পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ‘ভোট জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করলেও শেষ মুহূর্তে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও তৃণমুলের নেতাকর্মীদের ‘সম্ভাব্য হয়রানির’ কথা চিন্তা করে কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে বিএনপি।
যদিও কঠিন কোনো কর্মসূচি না নিয়ে বিক্ষোভের মতো প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরামর্শ ছিলো দল ও জোটের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের। তবে দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে আপাতত এই ধরনের কর্মসূচিও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে দলটি। সেজন্য কর্মসূচির পরিবর্তে ‘নজীরবিহীন ত্রুটিপূর্ণ ও অগ্রহনযোগ্য নির্বাচনে’র দায় নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পদত্যাগ দাবি করেছে বিএনপি।
দল ও জোটের শীর্ষ দু’জন নেতা রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন, ‘ভোটে যে ধরনের সহিংসতা, প্রভাব বিস্তার, কেন্দ্র দখল এবং ভোট জালিয়াতি হয়েছে, এর বিরুদ্ধে কঠিন কোনো কর্মসূচি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি দল ও জোটের নেই। সেই কারণে বিক্ষোভ সমাবেশের মতো কর্মসূচির পক্ষে দলের জেষ্ঠ্য নেতাদের সমর্থন ছিলো। তবে সার্বিক সিদ্ধান্ত ম্যাডামই (খালেদা জিয়া) নিয়েছেন।’
তবে দলীয় সূত্র বলছে, জানুয়ারিতে দলের ষষ্ঠ কাউন্সিল করার চিন্তা ভাবনা করছে বিএনপি। একই সঙ্গে পৌর নির্বাচনের জন্য দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় যে বাধা এসেছে সেটিও শেষ করতে চায় দলটি। তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় বিএনপির কমিটি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনগুলোতে ঢেলে সাজানোর চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে দলটি। এই অবস্থায় রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে নেতাকর্মীদের হয়রানির মধ্যে ফেলতে চাইছে না দলের হাইকমান্ড। এমনিতেই মামলা আর গ্রেফতারে হাপিয়ে উঠেছে নেতাকর্মীরা। এসব সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি থেকে আপাতত সরে এসেছে বিএনপি।
‘ভোট কারচুপি’র প্রতিবাদে কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিলে এ সম্পর্কে পরে জানাতে পারবো।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় একজন নিহত এবং বিভিন্ন স্থানে ‘কেন্দ্র দখল, ভোটারদের বাধা, কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া, হামলা’র অভিযোগের মধ্যে বুধবার প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌর মেয়র পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় সাত বছর পর নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের লড়াই নিয়ে দেশবাসীর মধ্যেও ব্যাপক কৌতুহল ও আগ্রহ ছিলো পৌর নির্বাচন ঘিরে।
নির্বাচনে ২৩৪ পৌরসভার মধ্যে এখন পর্যন্ত ২২৭টির ফল পাওয়া গেছে। এতে নৌকা প্রতীক জিতেছে ১৭৭টিতে, বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন ২২টিতে।
নির্বাচনে বিএনপি ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করলেও নির্বাচন কমিশন বলছে, বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ। আওয়ামী লীগও ভোট নিয়ে সস্তোষ জানিয়েছে।
এদিকে পৌর নির্বাচনকে সরকারের ‘নীলনকশার নির্বাচন’ আখ্যা দিয়ে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।
দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘পৌর নির্বাচন ছিল তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের আর একটি নাটক। বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এটি আর একটি কলঙ্কজনক নির্বাচন হিসাবে চিহ্নিত হবে। এর আগে উপজেলা নির্বাচন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
‘বর্তমান সরকারের অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী আচরণ এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতায় একথাই প্রমাণিত হয়েছে যে, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনও নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু হতে পারে না। পৌর নির্বাচন সেই সত্যেরই প্রামানিক চিত্র হিসাবে গোটা জাতির সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে’ বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল।