গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: গঙ্গাচড়া থেকে এক ভুট্টা ব্যবসায়ীকে পূর্ব শত্র“তার জের ধরে, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী এবং একাধিক মামলার আসামী ও তার সহযোগী কর্তৃক অপহরন করার তিন দিনের মধ্যে বুধবার নীলফামারীর চওড়া পাড়া থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় অপহরনকারী দলের ২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে ।
জানা যায়, উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের মটুকপুর চর এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে ভুট্টা ব্যবসায়ী মশিয়ার রহমান, গত সোমবার বিকালে কুড়িবিশ্বা গোডাউনের হাট এলাকায় ভুট্টা ক্রয়ের জন্য আসে। সেখানে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কুড়িবিশ্বা এলাকার মৃত আদলী হাজীর ছেলে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ একাধিক মামলার আসামী জিল্লুর রহমান ও তার ভাই লেবু,শহিদুল, সহযোগী একই এলাকার আবেদ আলীর ছেলে রব্বানী,শাহিন,শাহিদার,হানিফ,নওশার ছেলে আব্দুর রশিদ ও মৃত আব্দুল্লার ছেলে আতিয়ার রহমান মশিয়ারকে সেখানে এসে হঠাৎ এলোপাতারি মারধর করে, অস্ত্রের মুখে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মশিয়ারের ছোট ভাই নবিউর বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামী করে থানায় ওই দিনই একটি অপহরন মামলা করে। অপহরনের পরের দিন অপহরনকারীরা মোবাইল ফোনে মশিয়ারের মুক্তিপন ৪ লাখ টাকা দাবি করে মশিয়ারের পরিবারের নিকট।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী মশিয়ারকে দ্রুত উদ্ধার ও অপহরনকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিলসহ মানববন্ধন ও থানা ঘেরাও করে। প্রশাসন মশিয়ারকে উদ্ধার ও আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী শান্ত হয়।
অপহরনকারীরা মোবাইলে পরিবারের লোকজনের কাছে মুক্তিপনের জন্য বার বার হুমকী দিলে পরিবারের লোকজন টাকা দিতে রাজি হয়, এবং কৌশলে তাদের ঠিকানা জানার পর পরিবারের লোকজন গতকাল অপহরনকারীদের ঠিকানা মোতাবেক নীলফামারীর সদরের চওড়া পাড়া এলাকায় যায়। সেখানে তারা এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানালে, এলাকাবাসী অপহরনকারীর অবস্থানকৃত বাড়ীটি ঘেরাও করে পুলিশকে খবর দেয়।
নীলফামারীর সদর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে অপহৃত মশিয়ারকে উদ্ধার এবং অপহনের মূলহোতা জিল্লুর ও তার সহযোগী রশিদকে গ্রেফতার করে। পরে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ সেখান থেকে তাদের গঙ্গাচড়া থানায় নিয়ে আসে।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ এম এ মান্নান বলেন, অপহরনকারী দলের অন্য আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।