সিসি ডেস্ক: ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বাংলাদেশে গরু না আসতে দেয়ার যে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন তাতে ফায়দা তুলে নিচ্ছে মিয়ানমার। বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ইতিমধ্যে মিয়ানমার থেকে গরু আসতে শুরু করেছে। বিএসএফ জওয়ানরা বাংলাদেশে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার পর এদেশে বছরে ৩১ হাজার কোটি রুপি বা বাংলাদেশি টাকায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার বাজার এখন ধীর সুস্থে মিয়ানমার দখল করে নিচ্ছে। কারণ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে গরু আসতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। এছাড়া গরু আসছে ভুটান ও নেপাল থেকেও। উদ্যোগ নেয়া হয়েছে পাকিস্তান থেকেও গরু আমদানির।
ভারত থেকে গরু না এলে এসব গরুর বয়স হয়ে যাবে। তাছাড়া ধর্মীয় কারণেই ভারতের বিজেপি সরকার এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় কোরবানির ঈদে গরুর ঘাটতি নিয়ে যে শঙ্কা দেখা যায় তা মিয়ানমারের গরু আসায় আর থাকছে না। এমনিতে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ঘোষণা দিয়েছেন গরুর কোনো সংকট থাকবে না। ভারতের গরু আসায় বন্ধ হবার পর কৃষকদের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব গরু লালন পালনে বাড়তি মনোযোগ দেয়া হয়েছে। বরং ভারতের গরু এখন যদি আসে তাহলে কৃষক মার খাবে।
বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে গরু আসতে না দেয়ার ব্যাপারে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয় ভারতের বিজেপি সরকার। সীমান্তে বিএসএফ রক্ষীদের অস্ত্র সহ টহল বাড়িয়ে দেয়া হয়। দেখামাত্রই গুলির ঘটনায় বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হবার ঘটনা ঘটেছে। ভারতের তরফ থেকে নির্দেশ দেয়া হয় দেশটির বিভিন্ন গো-শালায় যে সোয়া কোটি গরু রয়েছে, তা স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু পর্যন্ত লালন-পালন করতে হবে।
এমনকি ভারতের শিশুদের পুষ্টির জন্য ‘সমন্বিত শিশু উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ভারত সরকার যে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে তার চারগুণ অর্থ বাংলাদেশে গরু পাঠিয়ে এতদিন আয় করছিল দেশটি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর ভারত থেকে প্রায় ২৫ লাখ গরু বাংলাদেশে পাচার হয়। সীমান্তরক্ষীদের সাথে লেনদেনের বিনিময়ে এই পাচারকাজ সম্পন্ন হত। কাজেই অর্থের কারণে হলেও এই পাচার বন্ধ সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের গরুর ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে কোটি কোটি টাকার গরুর মাংসের প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠেছে। আর তাতেই নড়েচড়ে বসেন ভারতের নীতিনির্ধারকরা।
এরপর বাংলাদেশে ভারতের গরু আসতে না পারায় মাংসের দাম বেড়ে যায়। এতে উল্লাস প্রকাশ করে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিলেন, বিএসএফ’র কড়া নজরদারিতে গরু পাচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে সম্প্রতি গরুর মাংসের দাম ৩০ ভাগ বেড়ে গেছে। রাজনাথ বিএসএফ রক্ষীদের আরো বলেন, আপনারা নজরদারি আরো বাড়িয়ে দিন যাতে গরু পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং বাংলাদেশে গরুর মাংসের দাম আরো ৭০-৮০ শতাংশ বেড়ে যায়। যাতে বাংলাদেশের মানুষ গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়।’
তবে বাংলাদেশের মানুষ গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেয়নি। কোরাবানিও হবে ইনশাল্লাহ। ভারত থেকে গরু না এলে গরু আসছে ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে। কৃষকদের যে বিশেষ ঋণ দেয়া শুরু হয়েছে তাতে আরো নজরদারি ও সহায়তা বৃদ্ধি পেলে গরু লালন পালন থেকে আরো লাভবান হবে গ্রামীণ অর্থনীতি।
বাংলাদেশের ২,২১৬ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত প্রায় ৩০ হাজার বিএসএফ’র ঘাড়ে রয়েছে গরু আটকানোর নতুন দায়িত্ব। এতে বাংলাদেশের খামারিরা লাভবান হবেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অজয় কুমার রায় বলেছেন, ভারত থেকে গরু না আসাটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। আমরা এবার নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে মনোযোগী হতে পারছি। বর্তমানে গরুর উৎপাদন বাড়াতে কৃত্রিম প্রজনন বৃদ্ধি, বাছুরের মৃত্যুহার কমিয়ে আনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের গরু দিয়ে কোরবানি সামাল দেওয়া যাবে। এতে দাম হয়তো কিছুটা বাড়বে। কিন্তু দেশের খামারিরা উপকৃত হবে। তারা গেল কয়েক বছরে ভালো দাম পায়নি। এবার তাদের লোকসান কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দেশে বছরে মোট গরুর চাহিদার ৭০ শতাংশের যোগান দেয় দেশীয় খামারিরা। বাকি ৩০ শতাংশ আসে ভারত থেকে। ভারতীয় গরু সস্তা হওয়ায় গত এক দশকে বাংলাদেশে গরু পালনের হার তেমন বাড়েনি। গত কোরবানির ঈদের পর থেকে ভারত থেকে সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় গরুর মাংসের দর কেজিপ্রতি ৪০ শতাংশ বেড়ে ৩৮০ টাকা হয়েছে। আস