দিনাজপুর প্রতিনিধি : নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলা দায়েরকারী আইনজীবী সুইহারী মহল্লার খায়রুজ্জামান (২) এর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দিনাজপুর উপজেলার নয়নপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আমিনুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ জাহানারা বেগম।
বৃহস্পতিবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে জাহানারা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার আত্মীয় বেলি বেগম।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৩-০৭-২০১৫ তারিখে দিনাজপুরে বসবাসকারী ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট উত্তর ডাংগীপাড়া গ্রামের তগিদুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ আনোয়ারা বেগম আমাকে (জাহানারা বেগম) ও মোঃ সোহেল রানাকে আসামী করে দিনাজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল জজ আদালতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধিত/২০০৩) আইনের ৬/৮/৯ (ক) যার নং-জি,আর ৩১৫/২০১৫ (সদর) ধারায় এক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, বাদিনীর নাবালিকা নাতনী ববি আক্তারকে (১৩) মোটা অংকের টাকা আদায়ের লক্ষ্যে নেশাজাত দ্রব্য খাইয়ে অপহরণ করে ভিকটিম ববিকে কোন অজ্ঞাত স্থানে গুম করে রেখেছে। মামলার প্রেক্ষিতে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তের জন্য বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল জজ নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ ২৯–৭-২০১৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট ধারায় এজাহার রের্কড করেন ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শ্রী বিশ্বনাথ দাস গুপ্তকে মামলার তদন্তভার অর্পণ করেন।
দায়িত্ব পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা দিনাজপুর শহরের কালিতলা মহল্লার জনৈক জেসমিনের বাসা থেকে ভিকটিম ববি আক্তারকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর ভিকটিম ববি আক্তার গত ১১-০৮-২০১৫ তারিখে থানার শিশু বান্ধব অফিসারের নিকট এই মর্মে জবানবন্দি দেন যে, সদর উপজেলার সুইহারী মহল্লার আইনজীবী খায়রুজ্জামান (২) ভিকটিমকে কালিতলাস্থ জনৈক জেসমিনের বাসায় রেখে তাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করেন। এতে ভিকটিম রাজী না হলে আইনজীবী খায়রুজ্জামান ববি আক্তার কে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে ও তার হাত ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, গত ০৭-০৯-২০১৫ তারিখে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু আইনের ২২ ধারামতে পুনরায় ভিকটিম ববি আক্তারের জবানবন্দি রের্কড করেন। এই জবানবন্দিতেও ভিকটিম বলেন, উপরোল্লিখিত আসামীদ্বয়ের (সোহেল রানা ও জাহানারা বেগম) এর বিরুদ্ধে তার কোন অভিযোগ নেই। খায়রুজ্জামান উকিল ভিকটিমের নানী মোছাঃ আনোয়ারা বেগম ও আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে নানী আনোয়ারাকে দিয়ে তাদের মিথ্যা মামলা করতে বাধ্য করায়। ভিকটিম তার জবানবন্দিতে আরও বলেন, খায়রুজ্জামান উকিল তাকে জোরপূর্বক বিবাহ করতে চায়। সে রাজী না হলে খায়রুজ্জামান উকিল চাকু দিয়ে তার ডান হাত কেটে দেয়। উল্লেখ্য, ভিকটিম ববি আক্তার বর্তমানে রাজশাহীর সেফ হোমে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া আবশ্যক। এখন পর্যন্ত অপহরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার হোতা খায়রুজ্জামান উকিল কি কারণে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে তা এলাকাবাসী জানতে চায়। আইনজীবী খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন মামলা রের্কড করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিম ববি আক্তারের মাতা রোজিনা আক্তার, জাহানারা বেগমের স্বামী মো. আমিনুল ইসলামসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।