• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ অপরাহ্ন |

মঙ্গলে পানি প্রবাহের চিহ্ন পাওয়া গেছে

mars1443468218সিসি ডেস্ক : অবশেষে সৌরজগতের লাল গ্রহ মঙ্গলে তরল পানির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা।

নাসার গবেষকরা বলেছেন, সৌর পরিবারেরে এই লাল গ্রহের উপরিভাগে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে পানির প্রবাহের চিহ্ন পেয়েছেন তারা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় ওয়াশিংটনে তাদের সদরদপ্তরের জেমস ওয়েব অডিটোরিয়ামে নাসার কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নাসার প্ল্যানেটারি সায়েন্স বিভাগের পরিচালক জিম গ্রিন ঘোষণা দেন, ‘এতদিন ভাবা হত মঙ্গল একটি শুষ্ক গ্রহ। কিন্তু তা নয়, মঙ্গলে বিশেষ পরিবেশে তরল পানির সন্ধান মিলেছে । এর অর্থ মঙ্গলে এখনও প্রাণের উদ্ভবের পরিবেশ রয়েছে।’

তবে কোথা থেকে কীভাবে পানি এল সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি নাসার গবেষকেরা। তবে তারা বলছেন, সৌরমণ্ডলে পরিবেশের দিক থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি গ্রহটিতে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার ক্ষেত্রে চিন্তার নতুন খোরাক দেবে এই প্রমাণ।

এ বিষয়ে নাসা ‘মার্স মিসট্রি সলভড্’ বা ‘মঙ্গলের রহস্য উন্মোচিত’ শিরোনামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

নাসার টুইট করা পোস্টে সংস্থার সহযোগী প্রশাসক জন গ্রুনসফেল্ড বলেন, ‘ মঙ্গলে আমরা পানিকে অনুসরণ করছিলাম, পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধানে আমাদের যে অনুসন্ধান এটা তারই অংশ। এখন আমরা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিয়ে বলতে পারি, আমরা যা ভেবেছিলাম, তাই পাচ্ছি। এখন প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, মঙ্গলে প্রবাহমান পানি আছে এবং তা এই সময়েই।

নাসার কৃত্রিম উপগ্রহ মঙ্গলের ‘রেকারিং স্লোপ লিনেই’ এর উপরের স্তরের যে ছবি পাঠিয়েছে, তা জমাট লবণের। এই লবণ মঙ্গলের হালকা বাতাসে থাকা পানির বরফ হওয়া কিংবা বাষ্পে পরিবর্তিত হওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে একে তরল আকারে প্রবাহিত করতে পারে।

২০১১ সালে প্রথম নাসার উপগ্রহ চিত্রে মঙ্গলে আরএসএল ধরা পড়ে; যা গ্রীষ্মকালে দেখা যায়, কিন্তু তাপমাত্রা কমলে মিলিয়ে যেতে শুরু করে। তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রির উপরে থাকলেও তা দেখা যায়। মহাকাশযান মার্স রোজন্যান্স অর্বিটারের  পাঠানো মঙ্গলের ‘কেমিকেল ম্যাপ’  বিশ্লেষণে নতুন একটি পদ্ধতি খুঁজে বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা দেখেছেন, মঙ্গলপৃষ্ঠে বিষুবীয় অঞ্চলের কয়েক স্থানে আরএসএলে ওই লবণ জমে একমাত্র পানির উপস্থিতিতে।

প্রসঙ্গত, এ বছরের শুরুর দিকে নাসার পাঠানো কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলের পৃষ্ঠের কাছাকাছি তরল পানি খুঁজে পেয়েছিল। এই আবিষ্কারের পর মঙ্গল গ্রহ যে একেবারেই ঠান্ডা ও শুষ্ক সে ধারণা থেকে সরে আসেন গবেষকেরা। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, মঙ্গলের পৃষ্ঠে এক ধরনের লবণের অস্তিত্ব আছে যা তরল পানিকে ফ্রিজিং পয়েন্টের নিচে একটি অবস্থায় যেতে সাহায্য করে।

এক্সপ্লোর মার্স নামের একটি অলাভজনক মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ক্রিস কারবেরি বোস্টন হেরাল্ডকে জানিয়েছেন, পানির সন্ধান পাওয়া গেলে ভবিষ্যৎ নভোচারীদের পানি ও অক্সিজেনের উৎস হিসেবে তা কাজে লাগবে। এখানে পানি থাকার অর্থ সেখানে তাপের কোনো উৎস রয়েছে যা পানিকে তরল করে রাখে। পৃথিবীতে যেমন পানি ও তাপ থাকলে সেখানে প্রাণ থাকার শতভাগ সম্ভাবনা থাকে। মঙ্গলেও সে সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

এর আগে নাসা আরো দাবি করে, এক সময় মঙ্গলের এক-পঞ্চমাংশ অঞ্চল পানিতে ঢাকা ছিল। যা থেকে তারা দাবি করেন, যেহেতু পানির অস্তিত্ব ছিল সেখানে, সেহেতু প্রাণের অস্তিত্বও ছিল এবং হয়তো এখনো আছে বা ভবিষ্যতে থাকবে।

তথ্যসূত্র : সিএনএন, নাসার ওয়েবসাইট

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ