সিসি ডেস্ক: আশুলিয়ার একটি চেকপোস্টে পুলিশের উপর হামলা এবং এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার ঘটনা বাহিনীটির পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা, কৌশল এবং প্রশিক্ষণকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
প্রশ্ন উঠেছে আক্রমণ মোকাবেলায় পুলিশের শৃঙ্খলা ও দক্ষতা নিয়েও। মঙ্গলবারের আক্রমণের সময় চেকপোস্টে ৫ জন পুলিশ কনস্টেবল এবং তাদের কাছে রাইফেল ও শটগান থাকা সত্ত্বেও দুইজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে মোকাবেলা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময় পুলিশের কাছে থাকা অস্ত্র লোড করা ছিল না। এমনকি রাইফেলের বুলেট ছিল তাদের পকেটে। এটি তাদের অপেশাদারিত্বের আরও একটি প্রমাণ।
ঘটনার দিন মোটর সাইকেলে চড়ে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে আসে ও একজন কনস্টেবলকে হত্যা এবং বাকিদের গুরুতর আহত করে সহজেই স্থান ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় তারা আরও দুইটি গুলি করে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই স্থান থেকে তারা গুলির দুইটি খোসা উদ্ধার করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পর সেখান থেকে পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করা হয় এবং পরবর্তী ৩০ ঘণ্টার মধ্যে কোনও পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।
শিল্প পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত চেকপোস্টে কোনও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবে সেখানকার তিনটি চেকপোস্টে প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করে।
এর দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীর গাবতলী এলাকায় একটি চেকপোস্টে দারুস সালাম থানার এক সহকারী সাব-ইনসপেক্টরকে কুপিয়ে (এএসআই) হত্যা করে এক যুবক।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভুল প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণের ঘাটতি এবং দায়িত্ব পালনে গুরুত্বহীনতার কারণেই পুলিশ কনস্টেবলদের মধ্যে অপেশাদারিত্ব জন্ম নিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি পুলিশে রাজনৈতিক নিয়োগ এবং দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন।
পুলিশ সদর দফতরের হিসেব অনুসারে, বর্তমানে বাহিনীটিতে ১ লাখেরও বেশি সদস্য রয়েছে।
পুলিশ সদস্যরা কেন গুলি করেনি- এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা জেলা পুলিশের সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান বলেন, হঠাৎ আক্রমণে পুলিশ সদস্যরা হতবিহবল হয়ে পড়ে। আর এ কারণেই তারা গুলি করতে পারেনি।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অনাকাঙ্খিত এসব আক্রমণ পুলিশ সদস্যদের হতবিহবল করে দেয়। ‘তবে তাদের সতর্ক থাকা উচিৎ ছিল।’
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিনুল কাদির জানান, নন্দন পার্কের উল্টো দিকের চেকপোস্টে একজন এএসআই’র নেতৃত্বে একটি দলের টহল দেওয়ার কথা ছিল। তবে ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে কোনও এএসআই ছিল না। যার কারণে ওই ৫ কনস্টেবলের নেতৃত্ব দেওয়ার কেউ ছিল না।
পুলিশ সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের ৬ মাস ব্যাপি প্রশিক্ষণে তাদেরকে মাত্র ৯০টি বুলেট দিয়ে ৪ ধরনের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চাইনিজ রাইফেল, শটাগান, সাব মেশিনগান এবং পিস্তল। ৬ মাসের এ প্রশিক্ষণে মাত্র দুই দিন হয় শুটিং প্রশিক্ষণ।
এছাড়াও দিনব্যাপি একটি বাৎসরিক কর্মসূচিতে তারা ৪০টি গুলি করার সুযোগ পায়।
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগের কারণে অনেক অযোগ্যরাও বাহিনীটিতে নিয়োগ পায়।
এ বিষয়ে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. নুরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুলিশ কনস্টেবলদের প্রশিক্ষণে অপর্যাপ্ততার কথা স্বীকার করেন।
সূত্র : দ্য ডেইলি স্টার।