সিসি নিউজ: পৌরসভা নির্বাচনের ব্যাপক তোড়জোড় হঠাৎ ঝিমিয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার বা আজ মঙ্গলবার এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল নির্বাচন কমিশনের। বিষয়টি একাধিকবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনাররা। কিন্তু গতকাল ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সংসদে পৌরসভা নির্বাচনের সংশোধিত আইন পাস হওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় পৌর বিধিমালার ভেটিং করে ইসিতে পাঠাবে। আইন এখনো পাস না হওয়ায় এ জন্য ভেটিং-এর কাজও পিছিয়ে গেছে। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়ছে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময়ও। নির্বাচনও ডিসেম্বরের মধ্যে করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা হয়েছে।
এ বিষয়ে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন সংশোধন নিয়ে কালক্ষেপণের কারণে নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে কমিশনের কিছুই করার নেই। আমরা সময়মতো সবকিছু প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এ সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এখনো আইন পাস না হওয়া ও বিধিমালার ভেটিং শেষ না হওয়ায় তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে এ সপ্তাহের শেষ ওয়ার্কিং ডে অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে এসব সম্পন্ন হলে আগামী সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আমরা ভোটার তালিকাসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেখা যাক কি হয়। তা না হলে জানুয়ারিতে নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আরো বলা হচ্ছে, ডিসেম্বরে ভোট করতে আর সময় রয়েছে ৪৪ দিন। এখনো আইন সংশোধন, নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা হয়নি। সব প্রক্রিয়া শেষ হতে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার পার হলে এ নির্বাচন ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদ বলে দিয়েছেন, বিধিমালা না এলে তফসিল ঘোষণা সম্ভব হবে না।
ভোটার তালিকা ও সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত, ব্যালট পেপার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী মুদ্রণসহ নানা প্রস্তুতি নিলেও আইন সংশোধন নিয়ে সরকারের ধীরগতিতে নির্বাচন কমিশনের কাজের গতিও থেমে গেছে। দলভিত্তিক পৌরসভা নির্বাচন করতে ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করে। মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া সংশোধিত আইনের খসড়া অনুযায়ীইএ নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধি প্রস্তুত করে কমিশন। কিন্তু এখনও আইন সংশোধন সম্পন্ন হয়নি। এ বিষয়ে গত ৩ নভেম্বর জারি করা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ রহিত করে এ আইনের পুনঃসংশোধনী সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এটি পাস হলে শুধুমাত্র মেয়র পদপ্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন। কাউন্সিলর প্রার্থীরা আগের মতোই নির্দলীয় প্রার্থী থাকবেন।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ এ বিষয়ে বলেন, শুধু মেয়র প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থী হলে নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগে সমস্যা হতে পারে। আগের নির্বাচনের মতো অনেক পৌরসভায় কাউন্সিলর প্রার্থীরাও দলের সমর্থন নিয়েই মাঠে থাকবেন। তাদের পক্ষে দলের নেতারাও প্রচারে নামতে পারেন। এ ধরনের প্রচার বন্ধ করা কঠিন হতে পারে।
আবার স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের পক্ষে বলা হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত একজন মেয়রের অনুপস্থিতে অরাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের প্যানেল মেয়রের দায়িত্ব পালন নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ এ নিয়ে জটিলতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ নির্বাচন কমিশনকে প্রথমে দেশের নির্বাচন উপযোগী ২৪৫টি পৌরসভার তালিকা দিলেও তা কমে এখন ২৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। এসব পৌরসভার মেয়াদোত্তীর্ণের সময় রয়েছে ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে পৌর নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরেই ভোট করতে হবে। বিধিমালা হাতে না পেলে এ নিয়ে আগাম কিছু বলা যাবে না।
তিন পৌরসভার বিষয়ে জরুরি মতামত চায় ইসি : এ নির্বাচন কমিশন ঠাকুরগাঁয়ের রানীশংকৈল, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার আইনি জটিলতার বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে জরুরি মতামত চেয়েছে। গতকাল ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব রাজীব আহসান স্বাক্ষরিত স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে এ তিন পৌরসভার বর্তমান অবস্থার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌরসভা ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার সীমানা জটিলতা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দু’জন নাগরিক ইসিতে অভিযোগ জানিয়ে নির্বাচন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।