ঢাকা: এবারের পৌরসভা নির্বাচন পুরোপুরিভাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী।
তিনি বলেছেন, ইতোপূর্বে যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটে থাকে, এবার সে সুযোগ দেয়া হবে না। এবার নির্বাচনে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক থাকবে। সবার নজরদারিতে ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব বলেন।
জাবেদ আলী বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসিকে নির্বাচন করার জন্য সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। তাই শুধু সরকার নয়, সমাজের সবাইকে নিয়ে পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচনেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোয়েন্দাবাহিনী থাকবে। দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমরা তথ্য পাই। সুতরাং নির্বাচনে কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবো। প্রার্থী যদি কোনো অভিযোগ নিয়ে আসে, তাহলে প্রার্থীকে প্রার্থী হিসেবেই দেখা হবে, দল ও প্রতীক সেক্ষেত্রে বিবেচিত হবে না।’
জামায়াতের নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে। এর বাইরেও আরও অনেকগুলো দল আছে। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে অন্যদলগুলো কীভাবে নির্বাচন করবে সেটা বলা আছে। যে দল নিবন্ধিত নয়, সে দলের কেউ নির্বাচন করতে পারবে না, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অনিবন্ধিত দলগুলো স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।’
নির্বাচনীয় ব্যয়সীমা নিয়ে এ কমিশনার বলেন, ‘প্রার্থীরা কোনো উৎস থেকে খরচ করবে, কোথায় টাকা পাচ্ছে এসব উল্লেখ করে ব্যয় রিটার্ন জমা দিতে হবে। ভোটারদের একটি স্লিপ দিলেও সেটিতে উল্লেখ রাখতে হবে, এটি কোত্থেকে ছাপা হয়েছে, এর খরচ কতো। আমরা আশা করছি, সবাই তাদের নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে খরচ করবে।’
প্রার্থী ও প্রার্থীদের হয়ে যারা কাজ করবেন, তারা কেউ যেনো আচরণবিধি লঙ্ঘন না করে এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে দাবি করে জাবেদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য যে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, আমরা সেটাই করছি।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু এবারই প্রথম দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন হচ্ছে, তাই নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এজন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশও দেয়া আছে।’