সিসি ডেস্ক: হাইকোর্টের আদেশের চার দিন পর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষদিন রবিবার মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা ত্রুটির অভিযোগে করা রিটে গত বুধবার বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি একেএম শহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ছয় মাস এই পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করে।
এই স্থগিতাদেশ নির্বাচন কমিশনে আসায় নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, গত ২১ জুন হাইকোর্টে সিংগাইর পৌরসভার বতর্মান মেয়র অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয়ের ছোট ভাই মো. মোস্তাক আহম্মেদ ভূঁঈয়া ভোটার তালিকা ত্রুটিপূর্ণের অভিযোগে হাইকোর্টে রিট করেন।
এই রিটে গত ২৩ জুন নির্বাচন কমিশন সিংগাইর পৌরসভার ভোটার তালিকা প্রণয়ন কেন আইনবর্হিভূত হবে না এবং কেন নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।
রুলে চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে এ বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়। কিন্তু, নির্বাচন কমিশন রুলের জবাব না দিয়ে গত ২৪ নভেম্বর পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
বিষয়টি আদালত অবমাননাকর উল্লেখ করে গত বুধবার রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে নির্বাচনসহ সকল কার্যক্রমে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট।
এদিকে, হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশ না আসায় তফসিল অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে বর্তমান মেয়র বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম জয়, আওয়ামী লীগের মনোনীত আবু নঈম বাশার, খেলাফতে মজলিশের মওলানা আশরাফ আলী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সাবেক মেয়র মীর মো. শাজাহান, স্বতন্ত্র মো. তোফাজ্জাল হোসেন ও মো. হাফিজ উদ্দিন বেশ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সিংগাইর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
একই সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেন পৌর সভার নয়টি ওয়ার্ডে সাত মহিলা কাউন্সিলর ও ৩৭ সাধারণ কাউন্সিলর।
গতকাল শনিবার প্রথম দিনে সাধারণ কাউন্সিলরদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে মানিকগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন জানান, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ না আসায় তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম করা হয়েছে। শনিবার রাতে রাতে নির্বাচন কমিশনে হাইকোর্টের ওই স্থগিতাদেশ পৌঁছেছে।
এরপর নির্বাচন কমিশন থেকে ফোনে বিষয়টি জানালে নির্বাচনী সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। রবিবার যে কোনো সময় স্থগিতাদেশ তার কাছে আসবে বলেও জানান মুনীর হোসাইন।