• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন |

পৌরসভা নির্বাচনে আইনি জটিলতার শঙ্কা

নির্বাচনসিসি ডেস্ক: ২৩৫ পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিধিতে অন্তত ছয় ক্ষেত্রে ভুল শনাক্ত করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। এসব ভুলের কারণে পৌরসভা নির্বাচনের যেকোনো পর্যায়ে আইনি জটিলতার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশন সূত্র থেকে জানা যায়, এ অবস্থায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝপথে এসে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন সচিবালয়। এ সংক্রান্ত একটি নথি উপস্থাপনও করা হয়েছে। ওই নথিতে পৌর নির্বাচনে দলীয় হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেছেন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বিধি সংশোধনের জন্য প্রস্তুতকৃত নথিতে দেখা গেছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ওই বক্তব্যের পর বিধির ত্রুটিগুলো শুধরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছেন। বিধির ছয়টি ক্ষেত্রে সংশোধনের জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত ৪টি, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সংক্রান্ত একটি উপধারা সংশোধন এবং নির্বাচনের কাজে ব্যবহৃত ছয় ধরনের ফরমে সংশোধনী। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পৌরসভা নির্বাচন আইনের সংশোধনী নিয়ে প্রথমে অধ্যাদেশ ও পরে তা বাতিল করে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়। এ কারণে বিধিমালায় দুবার সংশোধনী আনতে হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বিধিমালায় দুই ধরনের সংশোধনী আনতে গিয়ে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে। ওই সব ত্রুটি এই মুহূর্তে সংশোধন করা না হলে প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় বিধিতে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নথিতে দেখা গেছে, প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত ৪টি উপধারা নিয়ে ত্রুটি রয়েছে। বিদ্যমান বিধির ১৯(১)(ক) উপধারায় মেয়র পদে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের জন্য দলীয় প্রতীক বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এজন্য তফসিল-২ থেকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য বলা হয়েছে ওই উপধারায়। অপরদিকে তফসিল-২ এ ১৯(১)(ক) উপধারাটি উল্লেখ করা হয়নি। এর ফলে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে জটিলতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ‘তফসিল-২ এর ‘বিধি ১৯(১) দ্রষ্টব্য’ শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি ও বন্ধনী এর পরিবর্তে ‘বিধি (১৯)(১)(ক) দ্রষ্টব্য` শব্দগুলি, সংখ্যাগুলো, অক্ষর ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হবে।

একইভাবে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের জন্য প্রতীক তালিকা তফসিল-৩ এর ক্ষেত্রে বিধির ১৯(২)(খ) ধারা দ্রষ্টব্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ১৯(২)(খ) ধারায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে কিছুই উল্লেখ নেই। এটি ১৯(১)(খ) ধারায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশোধনীতে বলা হয়েছে- ‘তফসিল-৩ এর পর বিধি ১৯(২)(ক) দ্রষ্টব্য’ শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি ও বন্ধনী এর পরিবর্তে ‘বিধি (১৯)(১)(খ) দ্রষ্টব্য’ শব্দগুলি, সংখ্যাগুলো, অক্ষর ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হবে। একইভাবে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার বিধানেও ত্রুটি রয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ১৪ ডিসেম্বরের আগে এসব সংশোধনী আনা না হলে প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়তে পারেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে কয়েকজন রিটার্নিং ও সহকারি কর্মকর্তা বিষয়টি কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে মৌখিকভাবে ব্যাখা চেয়েছেন।

এছাড়া বিধি ১২ ধারায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও সংশোধনী আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে পৌরসভায় নির্বাচিত মেয়র ও চেয়ারম্যানরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ১০০ জন ভোটার স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা দিতে হবে না। এ ধারায় আগে শুধু মেয়রদের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে সংশোধনী আনতে যাচ্ছে কমিশন। প্রস্তাবে মনোনয়নপত্র, নির্বাচনে এজেন্ট নিয়োগসহ নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজে ব্যবহৃত ফরম ক, গ, জ, জ-১, ঢ ও ন নম্বর ফরমের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেছে কমিশন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ