• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন |

বাজিতপুরে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা

কিশোরগঞ্জকিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পেৌর শহরে ভোটের আগের রাতেই ব্যাপক গোলযোগ হয়েছে। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা পৌরসভার একটি কেন্দ্রে গোপনে প্রবেশ করে ব্যালট পেপারে সিল মারছেন- এ অভিযোগ পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মেয়র পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা ওই কেন্দ্র ঘেরাও করে। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন কমবেশি আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে থানার মোড় এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে জনগণ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, কয়েকজন প্রার্থী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজকের পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে আগের দিন সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে পৌরসভার ১২টি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসাররা ব্যালট বাক্স, নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যালট পেপার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে অবস্থান নেন।

সূত্রগুলো জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোবারক হোসেন মাস্টার, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা কামাল ওরফে লাদেন মস্তু ও সাবেক সভাপতি সানোয়ার আলী শাহ সেলিমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আশরাফের একদল কর্মী একটি মাইক্রোতে চড়ে পেৌর শহরের নিতারকান্দিতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যায়। এ খবর এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে জানাজানি হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নেতাদের কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করতে দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মো. এহেসান কুফিয়ার কর্মী-সমর্থকরা তাঁদের চ্যালেঞ্জ করে। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারি হয়। সংঘর্ষে পশ্চিম বাজিতপুরের আজিম, অর্পণ, খলিল, মামুন, সাদেক ও জলিল এবং পৈলনপুরের সগির, মোবারকসহ কমপক্ষে ১০ জন কমবেশি আহত হয়। আহতরা সবাই বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক। এদের মধ্যে প্রথমোক্ত পাঁচজনকে জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাতেই চিকিত্সা দেওয়া হয়।

আহত অর্পণ (১৭) জানায়, কেন্দ্রের ভেতর চশমা পরা এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে সে ব্যালট পেপার হাতে নিয়ে বসে থাকতে দেখেছে। এদিকে ঘটনার পরপরই রিটার্নিং অফিসার কাম ইউএনও ও ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটদের দুটি গাড়ি বঙ্গবন্ধু স্কুলে ছুটে যায়। এ ছাড়া রাতেই শহরে বিজিবি ও পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি টহল দেয়।

অন্যদিকে একই সময় থানার মোড়ে অসংলগ্ন চলাফেরা করতে দেখে দুই যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। দুজনই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থক ও সন্ত্রাসী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুবকরা অস্ত্রধারী ছিল বলে রাতেই শহরজুড়ে গুজব ছড়ায়। তবে যুবকদের নাম জানা যায়নি। এসব ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ করে থানার মোড় বাজার ও বাজিতপুর বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী মো. এহেসান কুফিয়া ও স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী শওকত আকবর দুজনই অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রভাবশালীদের নীলনকশার অংশ হিসেবেই রাতের অাঁধারে ওই নেতারা ব্যালট পেপারে সিল মারতে ওই কেন্দ্রে গিয়েছিলেন।

এদিকে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রর্থীর পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে রাতের বেলা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে বলে পৌরবাসী সূত্রে জানা গেছে।

তবে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভাই মো. আফজাল হোসেন জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা কেন্দ্র গিয়েছিলেন। গোপনে ব্যালট পেপারে সিল মারার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মিথ্যা। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিশ্চিত বিজয় ঠেকাতে ওরাই ষড়যন্ত্র করে এ গোলযোগ সৃষ্টি করেছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ