ঢাকা: কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশে ২৩৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তপূর্ণভাবে চলছে।অনেক কেন্দ্রে সকাল ৮টার আগেই ভোটারদেরকে লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়।তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে কেন্দ্রে লাইল বাড়তে থাকে।অপেক্ষাকৃত নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।
তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে ব্যাটল পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখল ও জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সক্রিয় রয়েছে।বেশ কয়েকটি জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্তদের জরিমানা করেছে।কোথাও সংঘর্ষ হলেই দ্রুত র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
গোলযোগের অভিযোগে সকাল ১১টার মধ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে তিনটি, মাদারীপুরের কালকিনিতে দুটি, কুমিল্লার বরুড়া এবং নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার একটি করে কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে।
আর জামালপুরের সরিষাবাড়ী, বরগুনা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার একটি করে কেন্দ্র সংঘর্ষের কারণে স্থগিত হয়ে গেছে।
যেসব কেন্দ্রে গোলযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই প্রশাসন অ্যাকশনে যাচ্ছে। যেমন চট্টগ্রামে ১০ পৌরসভার মধ্যে চন্দনাইশে সকাল ৮টার আগেই জোর করে ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তির অভিযোগে তিনটি কেন্দ্রে গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
আগেই সিল মেরে বাক্স ভরার ঘটনায় মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে।
টার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, কাষ্ঠগড় ও দক্ষিণ জোনারদণ্ডি কেন্দ্রে কয়েকটি ব্যালট বাক্স পাওয়া যায় যেগুলোতে আগে সিল দিয়ে ব্যালট পেপার ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
ভোট শুরুর আগে ব্যালটে সিল দেওয়ায় ভোট স্থগিত হয়েছে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লতিফপুর কেন্দ্রে।
ভোটে অনিয়মের অভিযোগে নড়াইলের কালিয়া পৌরসভার পূর্ব কালিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
জামালপুরের, জেলার ছয় পৌরসভার মধ্যে সরিষাবাড়ীর বাউসি বাঙ্গালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
বরগুনা পৌরসভায় কেন্দ্র দখল করে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে সিল মারার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর গগণ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
কুয়াকাটায়, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কুয়াকাটা পৌরসভার পানজুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
বিভিন্ন পৌরসভার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচন হচ্ছে। এ সুযোগে দীর্ঘ ৭ বছর পর নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই প্রতীকের সর্বশেষ লড়াই হয়েছিল। মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও কাউন্সিলররা নির্দলীয়ভাবেই নির্বাচন করছেন। ৯ ডিসেম্বর সকাল থেকে প্রচার শুরু হয়েছিল। শেষ হয় ২৮ ডিসেম্বর মধ্য রাতে।