ঢাকা: নিজ দলীয় প্রার্থীকে পৌর মেয়র পদে না জেতানোয় রিটার্নিং কর্মকর্তাকে হুমকির প্রেক্ষাপটে প্রধামন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব আবদুর রব হাওলাদারের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ নালিশ করা হয়।
ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে সরকারদলীয় এ সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর দেশব্যাপী ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারই প্রথম পৌর মেয়র পদে নির্বাচন রাজনৈতিক দলভিত্তিক ও দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার উদ্দেশে নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভূমিকা পালনে নির্দেশ প্রদান করেছে। ফলশ্রুতিতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন।’
এরপর সংযোজিত পত্রের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্যের নির্বাচনকালীন ভূমিকার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকর। বিষয়টি প্রধামন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করা আবশ্যকীয় বলে নির্বাচন কমিশন মনে করে। এজন্য প্রধামন্ত্রীর সদয় অবগতি ও সানুগ্রহ বিবেচনার জন্য পেশ করা হলো।’
স্পিকারের দৃষ্টিগোচরে আনতে একইভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে সংসদ সচিবের কাছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনতে তার কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তারা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জেলা প্রশাসন থেকে পাঠানো অভিযোগে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাব খাটানোর বিষয়টি বলা হয়েছে।
সেখানে লেখা হয়েছে, সরকারদলীয় প্রার্থীকে জেতাতে ওই সংসদ সদস্য ফোনে বারবার চাপ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য ভয়ভীতি ও হুমকিও দিয়েছেন এমপি শরীফ।
গত ৩০ ডিসেম্বর ফুলপুর পৌরসভার নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিনুল হক ৪,৮৩৭ ভোট পেয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শশধর সেন পান ৩,৮৯২ ভোট।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুব্রত পাল ওই রাতেই ফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনের সময় এই রিটার্নিং কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে শোকজ নোটিশও দিয়েছিলেন। ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময় ইউএনও সুব্রত পালের বাসার সামনে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে।
এর আগে পৌর নির্বাচনে সরকারের পাঁচ মন্ত্রীর বিষয়েও একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানাতে উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা করেনি নির্বাচন কমিশন।