সিসি ডেস্ক: জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবারের বইমেলায় আত্মজীবনী নিয়ে হাজির হচ্ছেন। দ্রুতই রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বইটির মোড়ক উন্মোচন শেষে তিনি মেলায় আসবেন বলে জানা গেছে।
‘আমার কর্ম আমার জীবন’ শিরোনামে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ তার বইটি প্রকাশ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির সাবেক উপ-পরিচালক মুহম্মদ মফিজুল ইসলাম। গবেষক-গ্রন্থকার মফিজুল আত্মজীবনীটির সমন্বয়ক। তিনি এরশাদের হাতে লেখা কপিকে পাণ্ডুলিপি আকারে প্রস্তুত, তা থেকে প্রেস কপি তৈরি এবং মুদ্রণের নানাবিধ কাজের সঙ্গে জড়িত।
বইটি প্রকাশ পাচ্ছে আকাশ প্রকাশনী থেকে। প্রকাশনা সংস্থাটির কর্ণধার আলমগীর সিকদার ছোটন বলেন, এরশাদ স্যারের দুটি বই এ বছর আমরা করেছি। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় কাজটি হলো তার পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী গ্রন্থ। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম এই ব্যক্তির সামগ্রিক জীবন যেমন বৈচিত্র্যের তেমনি নানা অর্জন-অভিজ্ঞতায় ভরপুর। এমন প্রতিটি কথা/তথ্য বইটির পাতায় পাতায় পাবেন পাঠকরা।
এদিকে মুহম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রায় চার বছর ধরে এই বইটি নিয়ে এরশাদ সাহেব কাজ করেছেন, লিখে গেছেন। প্রায় ৮৮০ পাতার লেখা এবং ১০৪ পাতার ছবিতে পরিপূর্ণ এই গ্রন্থটি অনেক বেশি সমৃদ্ধ। একটি পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী বলতে যা বোঝায় তাই হলো- ‘আমার কর্ম আমার জীবন’। এর প্রচ্ছদে রয়েছে সামনে তার ছবি এবং শেষে কিছু লেখা।
বইটি এলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মেলায় আসবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোড়ক উন্মোচনের পরদিন থেকে মেলায় বই পাওয়া যাবে এমনই সিদ্ধান্ত তার। সুতরাং উন্মোচনের পর দিন তিনি মেলায় আসবেন বলে সাধারণভাবে ধারণা করে নেয়া যায়। কবে-কোথায় হবে উন্মোচন অনুষ্ঠান এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এরশাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, রোববার রাতেও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ভালো ও খালি স্থান পাচ্ছেন না তিনি। সে জন্য উন্মোচনের কাজটি ঝুলে আছে। তবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে হতে পারে অনুষ্ঠান।
তিনি জানান, ১৯৩০ সালে জন্ম নেয়া হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বেশ কিছু সৃজনশীল বই ছাড়াও খণ্ড খণ্ড আকারে আত্মজীবনী থাকলেও এবার পরিপূর্ণ একটি বই তিনি করলেন। আশা করি এটি পাঠকের মধ্যে যেমন সাড়া ফেলবে, তেমনি অনেক না বলা কথা তিনি বইয়ের মাধ্যমে বলে যাবেন।