সুমন মূখাজী, নীলফামারী : আসন্ন ইউনিয়ান পরিষদে নির্বাচনে নীলফামারী সদরে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫টি ইউনিয়ন পরিষদে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। ছয় ধাপে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩১ মার্চ। ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীরা তাদের ভোটযুদ্ধের প্রতীক নিয়ে হাটে- বাজারে, বাড়ি-বাড়ি শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত। এসব ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনে একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটছে হামলা-মামলার ঘটনা। বিরাজ করছে উত্তেজনা। এবারেই প্রথম দলীয় প্রতীকে হতে চলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও কৌতূহলের যেন শেষ নেই। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় পোস্টার ও ব্যানারে ভরে গেছে ইউনিয়নের হাট-বাজার এবং গ্রামের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিলহাস উদ্দিন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের এ নির্বাচনে সব সময়ই উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি উত্তেজনাও বিরাজ করে। ইতিপূর্বে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। আশা করি ভোট সুষ্ঠু হবে। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনকে ঘিরে যেকোন ধরণের সহিংসতা এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আজ রবিবার (২৭ মার্চ) নীলফামারীর সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন হাটবাজার, বাসাবাড়ির দেয়াল ও গাছপালা। বেলা দুটা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ইজিবাইকে লাগানো মাইকে শুরু হয় শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। পঞ্চপুকুর ইউনিয়নে মোট ছয়জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হবিবর রহমান (আওয়ামী লীগ), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বর্তমান চেয়ারম্যান ওয়াহেদুল ইসলাম সরকার (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মশিউর রহমান প্রামাণিক (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য নাজমুল হক (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), রফিকুল ইসলাম (বিএনপি) ও জাপা নেতা নুরুল আমিন সরকার (স্বতন্ত্র)। পঞ্চপুকুর ইউনিয়ানের অানোয়ার ইসলাম বলেন, ৪০ বৎসর ধরে প্রার্থীর যোগ্য দেখে ভোট দিয়ে আসছি। দল নিরপেক্ষ প্রার্থীকে ভোট দিয়ে এসেছিলাম, এবার তো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন, যোগ্য প্রার্থী যদি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে থাকে, প্রতীক নয়, ভোট দেব যোগ্য প্রার্থী দেখে। নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়ন এলাকার রাশিদুল হাসানকে জিজ্ঞাসা করা হয় প্রার্থীদের ভোটের চা খেয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে হাসিমুখে বলেন, এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থী আমাকে চা খাওয়াতে পারে নাই এবং প্রার্থীদের ভোটের চা খাবো কেন, সারা বছর চা খেতে হয়, নির্বাচনের কারণে প্রার্থীদের কাছে চা খেতে হবে, যখন নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে তখন তো আর চা খাওয়াবে না ও কোন। প্রার্থী খোঁজ খবরও নেবে না। রাশিদুল হাসান আরো বলেন, প্রার্থী যে দলের যোগ্য, সৎ-নিষ্ঠাবান ও দুর্নীতিবাজ হবে না অামি তাকে ভোট দেব।