সিসি ডেস্ক: দলের পদ বাণিজ্য হচ্ছে এমন খবরে ক্ষুদ্ধ হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার রাতে এই নিয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। দলের কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠায় দলের ভাবমূর্তি প্রশ্ন বৃদ্ধ হচ্ছে। বৈঠক সূত্রে এমনটা জানা গেছে। অন্যদিকে দলের সচেতন নেতারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থায়ী কমিটির একজন বৈঠকে বলেন,‘ কুমিল্লার একজনকে সহ সাংগঠনিক পদে দেওয়া হয়েছে। যিনি উপজেলা নিবার্চনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীও পক্ষে কাজ করছে। যাদেরকে পদ দেওয়া হয়েছে কেউ কেউ যোগ্য আছেন। কেউ কেউ অযোগ্যও আছেন। তাদের কারণে ত্যাগী যারা আছেন তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন।’
অপর এক সদস্য বৈঠক বলেন,‘দলের পদ বাণিজ্য নিয়ে যে খবর পত্রপত্রিকায় ছাড়া হয়েছে তা মিথ্যা হতে পারে না। সব পত্রিকাই এই খবর ছেপেছে নাম সহকারে। তাই দ্রুত জাড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। নেতাকর্মীরা আমাদের ফোন করে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ব্যবস্থা না নিলে নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে যাবে।’ তাছাড়া দ্রুত কমিটি ঘোষণারও দাবি জানান তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘দুর্নীতি’র তথ্যের কিছু কাগজের ফটোকপি দেওয়া হয়। সবাই যেন এই আলোকে কথা বলেন। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে আসার প্রস্তাব দিলে খালেদা জিয়া তা গ্রহণ করেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, দুই এক দিনের মধ্যে সাংবাদ সম্মেলনে করে বৈঠকের বিষয়ে জানানো হবে। রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষ হয় সাত সাড়ে ১১টায়।
খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যাইরস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান।
এরপর গত ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের পর এখনো স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়নি। তাই পুরানো সদস্যদেও নিয়েই বৈঠক করছেন খালেদা জিয়া।
দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন ও তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনর্র্নিবাচিত হন। এরপর ৩০ মার্চ মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব, রহুল কবির রিজভীকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মিজানুর রহমানকে কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ৯ এপ্রিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব পদে ৭ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৯ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিকসহ দলের ১০ বিভাগে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।