মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী ছবর আলী ও মুমিনুর রহমান আড়াই বছরের আইনী লড়াই শেষে ‘সেকশন অফিসারের মর্যাদা’ লাভ করেছেন। আইনী লড়াই শেষে সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়াী নিম্নমান সহকারী পদ হতে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ পেয়েছেন তারা।
২০০৭ সালে দিন হাজিরার ভিত্তিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ লাভ করেছিলেন মমিনুর ইসলাম এবং ছবর আলী। ২০১০ সালে দায়েরকৃত একটি মামলার রায়ে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৩ সালে দেয়া রায়ে অস্থায়ী কর্মচারীদের তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দানের নির্দেশ প্রদান করেন। এই আদেশের আলোকে বোর্ড চেয়ারম্যান ওই সময় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আহ্বান করেন। ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে ইতিহাসে মাষ্টার্স ডিগ্রিধারী মো. ছবর আলী সাতক্ষীরা জেলা কোটায় এবং ইসলামের ইতিহাসে মাষ্টার্স ডিগ্রিধারী মমিনুর ইসলাম আনসার-ভিডিপি কোটায় সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ চেয়ে আবেদন করেন।
কিন্তু দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন মিয়া কোটা পদ্ধতি অনুসরণ না করে এবং আদালতের নির্দেশনা না মেনে তাদেরকে হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ দেন। অথচ ওই পদে তাদের কোন আবেদন ছিল না। এই নিয়োগে বিক্ষুব্ধ হয়ে দুই কর্মচারী সুপ্রীম কোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন। প্রায় আড়াই বছর আইনী লড়াই শেষে সুপ্রীম কোর্ট তাদেরকে আবেদনকৃত পদে নিয়োগ দিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের প্রতি নির্দেশনা দেন। নির্দেশনার আলোকে চলতি বছরের ১৫ মে দুই কর্মচারীকে সেকশন অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
মামলা করে যোগ্য পদে নিয়োগ পেলেন মাত্র দু’জন। কিন্তু দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আরো অনেক কর্মচারী আছেন যারা মামলা করেননি বলে যোগ্যতা থাকা সত্বেও যোগ্য পদে নিয়োগ পাচ্ছেন না। হিসাব বিজ্ঞানে এরকম রেখা মৌসুমী, রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এমএসএস মামুনুর রশীদ, ইতিহাসে মাষ্টার্স আহসানুল ইসলাম, বিএসএস পাস তরুন আলী প্রমুখকে নিম্নমান সহকারী স্কেলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিগত চেয়ারম্যানের সময়। এ নিয়ে তাদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই ৪ জনসহ বেশ কিছু পদবঞ্চিত কর্মচারী যোগ্যতানুযায়ী নতুনভাবে পদ-পদবী প্রদান করার আবেদন জানিয়ে গত ১৬-১০-১৪ ইং তারিখে বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে একটি আবেদন করেছেন। কিন্তু কোন সুরাহা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পদ বঞ্চিতরা।