অর্থ -বাণিজ্য ডেস্ক: ব্রিটেন ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার পর থেকে পাউন্ডের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত ২৩ জুন এই ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রিটিশ জনগন ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর পর থেকে বিশ্ব বাজারে পাউন্ডের দরপতন হতে থাকে।
ঈদের আগ মুহূর্তে পাউন্ডের দাম পড়ে গেলে ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা চরম দুঃচিন্তায় পড়ে যান। ২২ জুন যেখানে ১ পাউন্ডে পাওয়া যেত ১১৬ টাকা সেখানের গণভোটের পরদিন থেকে পাওয়া যাচ্ছিল ১০৫-১০৭টাকা। এখন আরো কমে দাড়িয়েছে১০১-১-২টাকা। এতে করে প্রবাসীদের দেশে টাকা পাঠাতে বাড়তি পাউন্ড খরছ করতে হচ্ছে।
এদিকে জানা গেছে ব্রেক্সিটকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় এশিয়ার মুদ্রা বাজারে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের দরপতন হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এই দরপতনের কারণে ৩১ বছরে পাউন্ডের মূল্যমান সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা বিরাজমান থাকায় এই দরপতন হয়েছে। বুধবার ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মূল্যমান দাঁড়িয়েছে ১.২৭৯৮ ডলার যা ৩১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এর আগে গত ২৩ জুন বেক্সিটের পক্ষে গণভোটের রায় আসার পরও পাউন্ডের মূল্যমান ৩১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগকারীরা যখন তাদের পুঁজির জন্য সেইফ হ্যাভেন খুঁজছেন তখন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বন্ড ইয়েল্ডের (বণ্ডের বিপরীতে ঋণদাতাকে যে মুনাফা দেওয়া হয়) পতন হয়। আর তাতে নতুন করে পাউন্ডের দাম কমে যায়। কেবল যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বন্ড ইয়েল্ডই নয়, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সরকারের বন্ডের ইয়েল্ডও রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। বিনিয়োগকারীরা তথাকথিত সেইফ হ্যাভেনে বিনিয়োগ করতে চাওয়ায় অর্থাৎ ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠায় বন্ড ইয়েল্ডের পতনও অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বন্ডের চাহিদা বাড়লে তখন এর দাম বেড়ে যায়। আর যখন বন্ডের দাম বাড়ে তখন তাদের ইয়েল্ডের পতন হয়। এর আগে যুক্তরাজ্য থেকে বিনিয়োগকারীরা যেন পুঁজি প্রত্যাহার করে না নেন সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে স্ট্যান্ডার্ড লাইফ অ্যান্ড আভিভাসহ বিভিন্ন ফান্ড ম্যানেজারদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয়। ফান্ড ম্যানেজাররা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, বেক্সিটের পক্ষে গণভোটের রায় আসার কারণে বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজি প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। এদিকে নতুন করে ব্রেক্সিটের উদ্বেগ এশিয়ান স্টক মার্কেটেও দরপতন নিয়ে এসেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসার সিদ্ধান্তের পর গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে অন্য দেশগুলোও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সদস্য পদ প্রত্যাহার করে নিতে পারে। গোটা জুন মাস ধরেই এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশঙ্কা ছিল।ব্রেক্সিট প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে রায় আসবার আভাস পাওয়ার পর থেকেই নাটকীয়ভাবে কমে যায় পাউন্ডের মূল্যমান।
এই দর গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। পাউন্ডের দর কমায় বিদেশ থেকে আমদানিতে বেশি অর্থ গুণতে হবে ব্রিটেনকে। অন্যদিকে পণ্যের দাম সস্তা হওয়ায় লাভবান হবেন দেশটির রপ্তানিকারকরা। সূত্র: বিবিসি।