• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন |

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার হিড়িক

Sonchoy-220160710123634অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ৯ দিনের লম্বা ছুটি শেষে রোববার খুলেছে ব্যাংক-বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে ব্যাংকগুলোতে সাধারণ কার্যক্রমে ভিড় না থাকলেও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার হিড়িক পড়েছে। আর অতিরিক্ত গ্রাহককে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকাররা।
রোববার রাজধানীর মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে দেখা গেছে সঞ্চয়পত্রের  মুনাফা তুলতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। আবার অনেকে ফরম জমা দিয়ে বসে আছেন।
জানা গেছে, গত ১ থেকে ৯ জুলাই ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকায় সঞ্চপত্রের বিনিয়োগকারীরা তাদের মাসিক ও ত্রৈমাসিক সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে পারেনি। তাই ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসেই মুনাফা তুলায় গ্রাহকের ভিড় লেগেছে।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল অফিসের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার ফনীন্দ্র ত্রিবেদী  বলেন, বেশির ভাগ সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীর মুনাফা দিয়ে সংসার চালায়। যেসব বিনিয়োগকরীর সঞ্চয়পত্র ৩০ জুন অথবা ৯ দিন বন্ধের মধ্যে ম্যাচিউড হয়েছে তারা মুনাফা তুলতে পারেনি। তাই আজকে প্রথম কর্মদিবসে সবাই মুনাফা তুলতে এসেছে। ফলে সাধারণ লেনদেন তেমন না হলেও সকাল থেকেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার ক্ষেত্রে দীর্ঘ লাইন রয়েছে। এতে করে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা গ্রাহকের সেবা প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে আসা খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আকলিমা খাতুন বলেন, স্বামীর জমানো টাকা দিয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি ৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন তিনি। তিনমাস পর পর একসঙ্গে মুনাফা তুলি । ১ জুলাই মুনাফার টাকা তুলার কথা। কিন্তু ঈদের ছুটির কারণে তুলতে পারিনি। তাই আজকে তুলতে এসেছি।
বাংলাদেশ ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বরত কমকর্তা জানান, সকাল থেকে প্রচুর গ্রাহক সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বা সুদ তুলতে এসেছেন। ঈদের লম্বা ছুটির এ অবস্থা বলেন জানান তিনি। আর এক সঙ্গে এতো গ্রাহকের সেবা দিতে তারা দম ফেলানোর সময় পাচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ মে থেকে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের উপর দুই শতাংশ কমিয়ে নতুন সুদহার কার্যকর সরকার। পরিবার সঞ্চয়পত্রের (পাঁচ বছর মেয়াদি) সুদহার বিদ্যমান ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্র (পাঁচ বছর মেয়াদি) ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ডাকঘর সঞ্চয়পত্র (তিন বছর মেয়াদি) ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ, বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র (তিন বছর মেয়াদি) ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক শূণ্য ৪ শতাংশ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। আর ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস অর্থাৎ সঞ্চয়পত্র থেকে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে সরকার।

উৎস:  জাগো নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ