এম আর মহসিন: সৈয়দপুর হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নিত হয়েছে। চাকচিক্যময় হাসপাতালের চারতলা ভবন, ডাক্তার ও ষ্টাফ কোয়াটার, ডাক্তারদের স্ব-স্ব চেম্বার, উন্নত অপারেশন থিয়েটার, যথেষ্ট ওষুধ সরবরাহসহ চিকিৎসার জন্য সকল ক্ষেত্রই প্রস্তত করা হয়েছে। তবে নেই শুধু যথাযথ পদের জনবল। আর এর কারণে আগত রোগিদের চড়ম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জরুরী, অাভ্যন্তরিন কিংবা বহিঃবিভাগে সেকমোদের দ্বাড়াই নামমাত্র সান্তনার চিকিৎসা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। না হয় অভিন্ন অজুহাতে তাদের ভাগ্যে জুটছে রেফার্ড। তবে এখানেও স্বস্তি নেই। কারন বিকল এ্যাম্বুলেন্স। এতে দুর-দুরান্তের চিকিৎসা নিতে দ্বিগুন ভাড়া গুনতে হচ্ছে রোগিদের। এভাবে এ উপজেলাবাসিগন এ চিকিৎসাকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পেষিত হলেও দেখার যেন কেহ নেই।
জানা যায়, ১৯৬৫ সালে নির্মিত এ হাসপাতালটি শুরু হতেই ৫০ শয্যের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিল। পরে তৎকালীন নীলফামারী-৪ আসনের সাংসদ কর্নেল (অবঃ) মারুফ সাকলান এটি ১০০ শয্যে উন্নিত করনে সংসদে প্রস্তাব পেশ করেন। যা সংসদে পাশ হয়ে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ২০১৫ সালে ব্শ্বি স্বাস্ব্য সংস্থার অধীনে প্রায় তিন ধাপে ২১ কোটি টাকা ব্যায়ে চাহিদানুযায়ি সবকিছু নির্মান করা হয়। এতে কর্মরতদের আবাসন, নতুন হাসপাতাল ভবনের সহ যাবতীয় চাহিদা পুরন হয়। তবে কাজের-কাজ কিছুই হয়নি। চিকিৎসা ক্ষেত্র যথাযথ প্রস্তত থাকলেও ৫০ শয্যর জনবল নেই এ হাসপাতালটিতে। আর এ স্বল্পতা দিয়েই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে রোগিদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সুত্রে যানা যায়, এ হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় রুপান্তর হলেও জনবল বাড়েনি। এমনকি ৫০ শয্যর অনুমোদিত ঘাটতি জনবল দিয়ে চলছে এ হাসপাতাল। পূর্বের যে ১২ জন চিকিৎসকের মধ্যে সিনিয়র কনঃ মেডিসিন ১জন, সিনিয়র কনঃ সার্জারি ১জন,জুনিঃকনঃ প্যথলজি ১জন, জুনিঃকনঃ ইএনটি ১জন, জুনিঃকনঃ এ্যানেসথেসিয়া ১জন, আর এম,প্যাথলজি ১জন রেডিওলোজিষ্ট নেই। আছেন কেবল একজন ডেন্টাল সার্জন,১জন এমও এবং ১জন জুনিঃকনঃ গাইনি মিলে এ সকল অনুমদিত পদে আছেন কেবল ৩ জন। পাশাপাশি ভর্তি রোগিদের সেবায় ষ্টাফ নার্স,সহকারি নার্স,মেডিঃটেকঃফার্মাসিষ্ট, এমএলএসএস,কুকমশালচি,সুইপারসহ প্রায় ৬৩টি অনুমোদিত পদ থাকলেও নেই ১৭ জন। তারপরেও কোন রকম সেবা ধরে রাখতে এ উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে সহকারি হিসেবে কাজ করা ৩ জন সেকমো আর ৩ জন ডাক্তার মিলে প্রতিদিন জরুরী, অন্তঃ ও বহিঃ বিভাগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এতে কোন রকম খুড়িয়ে-খুড়িয়ে চলছে এ হাসপাতালটির চিকিৎসা ব্যাবস্থাপনা। আর রেফাড হলে কষ্টের সিমা থাকে না রোগিদের। কারন বিকল এ্যাম্বুলেন্স ও তার দুই চালকের মধ্যে ১ জন নেই। এতে উন্নত চিকিৎসার্থে তারা স্থানান্তরিতের কবলে পড়ে দ্বিগুন ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার এ হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, এর আঙ্গিনায় নতুন ভবনে শতশত চিকিৎসা প্রত্যাশিরা এ বহিঃবিভাগে ভিড় করছেন। যেন তিল ধারনের জায়গা নেই। অনেকটা এলোমেলো ভাবে দাড়িয়ে ডাক্তারের কক্ষে প্রবেশের অপেক্ষায়। আম্বিয়া(৫৬) নামে এক রোগি জানান, এখানে এক্সরে করার নির্দেশ দিয়েছে। ভিতরে গিয়ে দেখি লোক নেই্। পরে শহরের একটি ক্লিনিকে এ পরীক্ষা করান এ মধ্যবয়সি রোগি।
এরপর ভিতরে গিয়ে নতুন বহুতল হাসপাতাল ভবন ঘুরে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক ভর্তি রোগি চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সকলের অভিযোগ ভর্তির পর আর ডাক্তার পাওয়া যায় না। একেবারে পরের দিন। নার্সদের বললে তারা বলেন আমাদের করার কিছুই নেই। মোঃ আঃ আউয়াল নামে এক রোগির অবিভাবকের সাথে কথা হলে ক্ষোভের সাথে বলেন, আমাদের ভাগ্যে কি এমবিবি এস ডাক্তার জুটবেনা। কারন গত বৃহষ্পতিবার রাতে পেটের ব্যাথা নিয়ে এ হাসপাতালে রোগি নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয় সেকমো ডাক্তার। পরের দিন আরোগ্য না হলে রোগিকে রংপুরে রেফাড করা হয়। আবার নেই এ্যাম্বুলেন্স। পরে দ্বিগুন ব্যায়ে রোগিকে রংপুরে নিয়ে যাই। শাহিন নামে আর এক অভিভাবক জানান,সকালে রাউন্ড দেয় মহিলা ডাক্তার তার চিকিৎসায় ছাড়পত্রে স্বাক্ষর দেন পুরুষ ডাক্তার। এ উল্টাপাল্টা নিয়ম বুঝলাম না। আর একই অভিযোগে এলাকাবাসিরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মকবুল হোসেন নামে এক এলাকাবাসি বলেন, অন্তত জরুরী বিভাগটি একজন এমবিবিএস ডাক্তার পরিচালনা করলে এ উপজেলাবাসি যথার্থ চিকিৎসা পেত। ভুল চিকিৎসার হয়রানি বন্ধ হতো। অন্তঃবিভাগে চিকিৎসাধীন অন্যন্য রোগির অভিভাবকরা বলেন, চাকচিক্য বহুতল ভবন। তবে ১০০শয্যর সেবা মিলছেনা রোগিদের।
এ নিয়ে সৈয়দপুর ১০০ শয্য হাসপাতালের দায়িত্বরত সিভিল সার্জন ও তত্ববধায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুর রশিদের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ডাক্তার সংকট রয়েছে। এর পরেও চাহিদা মেটাতে বাহিরের ডাক্তার এনে চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক রাখা হয়েছে। আর সেকমোরা জরুরী বিভাগে ডাক্তারদের সহকারি হিসেবে কাজ করছে। তবে জরুরী বিভাগ যে শুধু সেকমোরা চালাচ্ছেন এমন এক প্র¤েœর জবাবে তিনি বলেন, মুলত ভারপ্রাপ্ত ্আরএমও এর এ বিষয়টি দেখার কথা। তবে এলাকাবাসির সুচিকিৎসার দাবির ক্ষেত্রে অবশ্যই সেকমোদের দ্বারা জরুরী বিভাগ চালাতে যাতে না হয়। সে বাবস্থাই নেয়া হবে। তবে কতৃপক্ষ যত আশারবানি শোনাক না কেন এ সরকার চিকিৎসা সেবায় হাজার-হাজার কোটি টাকা ব্যায় করছে। তার পরেও সৈয়দপুরের এ হাসপাতালে কি উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা কখনোই জুটবেনা। এমন প্রশ্নে মৌলিক চাহিদা প্রাপ্যতায় এ বিষয়টি এখন তাই গন দাবিতে রুপ নিয়েছে এ জনপদবাসির মধ্যে।