• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন |

চায়ের জগতে উদ্ভাবন ‘সাতকড়া চা’

সাতকড়াসিসি ডেস্ক: লেবুজাতীয় ফল সাতকড়া বৃহত্তর সিলেটের মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয়। শুধু সিলেটে নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বিস্তৃত হচ্ছে এ ফলের নাম। জনপ্রিয় এ ফল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। তবে ফলটি ভারত থেকেই বেশি আমদানি হয় বলে প্রচারিত।
এরইমধ্যে গবেষকরা সিলেটের এ জনপ্রিয় ফলকে দেশব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলতে তৈরি করেছেন ‘সাতকড়া চা’। চায়ের রং হবে অনেকটা কমলা। চা পাতার সঙ্গে সাতকড়ার সংমিশ্রণে তৈরি এ চা। বাংলাদেশ চা গবেষণা কোষের (বিটিআরআই) শ্রীমঙ্গলের জেনারেল ম্যানেজার খোন্দকার শাহজাহান নিজেই উদ্ভাবন করেছেন নতুন এ চা।
এখন বাজারজাত করার অপেক্ষায়। গবেষণাগার থেকে টেস্টিং প্রতিবেদন পাওয়ার পর যে কোনো সময় এ চা বাজারজাত করা হতে পারে, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন চায়ের গুণাগুণ বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রথম অবস্থায় চায়ে একটু অতিরিক্ত টক হয়ে যাওয়ায় ফের কয়েক দফা চেষ্টা করেছেন এ বিশেষজ্ঞ। সাতকড়া চা তৈরি বেশ ব্যয়বহুল। বাজারজাত করার পর প্রতিকেজি চা মিলবে ১ হাজার ৫শ’ টাকায়।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা কোষের জেনারেল ম্যানেজার খোন্দকার শাহজাহান  জানান, সাতকড়ার চা ছাড়াও ‘সিলভার চা’ তৈরি করেছেন তিনি। যা গুণাগুণের দিক থেকে সব চা পাতাকে পেছনে ফেলবে।
তিনি বলেন, সাতকড়া বৃহত্তর সিলেটে জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা করে এ ফল থেকে চা তৈরির জন্য তিনমাস যাবত চেষ্টা করে সফল হয়েছি। এখন স্যাম্পল পাঠানো হয়েছে ঢাকার পরীক্ষাগারে। সাতকড়ার চা দেশের জন্য একটি মাইলফলক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খোন্দকার শাহজাহান বলেন, ১ কেজি সাতকড়া থেকে এক কেজি চা তৈরি করা যায়। এরসঙ্গে চা পাতার সংমিশ্রণ ঘটাতে হয়। সাতকড়ার ভেতরের পর্সনটা ফেলে দিয়ে বাকি অংশটুকু কাজে লাগিয়েছেন। তবে রোদ না থাকায় সাতকড়ার আদ্রতা দূর করতে সময় লাগে বলে জানান তিনি। প্রথম অবস্থায় দুশো কেজি চা বাজারজাতের সম্ভাবনা আছে বলে জানান এ চা গবেষক। আর সাতকড়া চায়ের লেভেলও তৈরি হয়ে গেছে।
এর ব্র্যান্ডিং নাম হবে সাতকড়া চা, বাংলাদেশের চা। এরই মধ্যে তিনি সিলভার চা ছাড়াও অর্থডক্স (আদি চা) তৈরি করেছেন। যে চা অর্ধশত বছর আগে তৈরি করা হতো। এ চায়ের বৈশিষ্ট্য লিকার হালকা, ফ্লেভার বেশি। এছাড়াও ডায়বেটিক চা  তৈরিরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আর এসব কাজে তাকে প্রেরণা যুগিয়েছেন চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম।
দেশের জন্য কিছু করার অংশ হিসেবে এই চা তৈরি করেছেন তিনি। অচিরেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের এ চা পাওয়া যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ