
সিসি ডেস্ক: ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের চাপে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা না পাওয়া আবদুল্লাহ আল নোমান। বিএনপি চেয়ারপারসন এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে চট্টগ্রামের বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ সপ্তাহ খানেকের মধ্যে দলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন বলে তার ঘনিষ্ট নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
অবশ্য আবুদল্লাহ আল নোমান সোমবার সকাল পর্যন্ত এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও তিনি যে ওই পথেই পা বাড়াচ্ছেন তা বোঝা গেল তার কথায়- ‘আমার নেতাকর্মীরা কী বলে তার ওপর নির্ভর করছে আমার সিদ্ধান্ত। তাদের কথা আমি চিন্তা করছি।’
তবে চট্টগ্রামে নোমানের ঘনিষ্ঠ একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ আল নোমান অনেকটা মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। পরপর দুবার গঠিত দলের স্থায়ী কমিটিতে জায়গা না হওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন। তার কর্মী ছিল এমন নেতারা দলের সর্বোচ্চ ফোরামে ঠাঁই পাওয়া কিন্তু তাদের নেতা হয়ে তার জায়গা না পাওয়ার বিষয়টা তাকে ভীষণভাবে পীড়া দিচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে অপমানিতবোধও করছেন। এ অবস্থায় তার পক্ষে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ ৩৭ বছর জাগদল হয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়ার সময় আবদুল্লাহ আল নোমানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সাথে যুক্ত ছিলেন অনেক বিএনপি নেতা। তাদেরই একজন এম এ সবুর। নোমনের হাতে নগর বিএনপির নেতৃত্ব থাকাকালে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
প্রবীণ এ বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে লোকটি সারাটা জীবন বিএনপির জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন সে দল আজ তাকে অপমান করে তার প্রতিদান দিয়েছে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কী হতে পারে? ‘আমি নোমান ভাইকে বলেছি, পদত্যাগ করে ফেলতে।’
এদিকে আবদুল্লাহ আল নোমানের সাথে গণহারে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রামে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত তার অনুসারীরা। ইতিমধ্যে অনেক নেতা বিএনপির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন।
নগরের খুলশী থানা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার জানিয়েছেন, তিনি সামনে নগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির কোনো দায়িত্বে থাকবেন না। নগর বিএনপির সাবেক এ যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘যে দলে নোমান ভাইয়ের মতো একজন বিজ্ঞ নেতার মূল্যায়ন হয় না, সেখানে আমরা থেকে কী লাভ?’
আবদুস সাত্তারের মতো ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে নগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেলের মনেও। তার কথায়, ‘যেখানে নেতার মূল্যায়ন হয় না সেখানে আমরা তার কর্মীদের আর কী বা মূল্যায়ন হবে? অথচ নোমান ভাই এ বয়সেও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যেভাবে সক্রিয় আছেন আর কোনো বর্ষীয়ান নেতা সেভাবে সক্রিয় নেই।’
আবদুল্লাহ আল নোমানের অনুসারী নগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ জানিয়েছেন, নোমান পদত্যাগ করলে ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত তার অনুসারী নেতাকর্মীরাও গণহারে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে আশায় বুক বেঁধেও কাঙ্ক্ষিত চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে আসীন হতে না পেরে আবু সুফিয়ানও মান-অভিমান করে দল থেকে পদত্যাগ করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
আবু সুফিয়ানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত নগর চাঁন্দগাও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লিপু জানান, কয়েকদিনের মধ্যে ঢাকায় গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে দেখা করবেন আবু সুফিয়ান ভাই। তাকে মূল্যায়ন করা না হলে তিনি পদ থেকে তো বটেই, দলের সাথেও সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আবু সুফিয়ান এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, রাজনীতিতে ডা. শাহাদাতের সিনিয়র আবু সুফিয়ান। চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে শুরু করা রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতায় আন্দোলন সংগ্রামে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেও দুই দফা কারাবরণ করেছেন তিনি।
কয়েক মাস আগে চেয়ারপারসন তাকে দলের সভাপতি পদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। কিন’ কমিটি ঘোষণার সময় জুনিয়র একজনকে সভাপতি ঘোষণা করার পর আবু সুফিয়ান বেশ হতাশ হয়ে পড়েছেন। তার অনুসারী নেতাকর্মীরা তাকে দল থেকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় তিনিও সে ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, চার মাস আগে নগর বিএনপির সহ সভাপতি আবু সুফিয়ানের কাঁধে নেতৃত্বের ভার তুলে দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। গত ১০ এপ্রিল আবু সুফিয়ান গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাথে সাক্ষাৎ করার পর তাকে নেত্বত্বের আসনে বসার সবুজ সংকেত দেওয়া হয় বলে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা তখন জানিয়েছিলেন। দলের তিনি ‘ত্যাগী নেতা’ হিসেবে পরিচিত। চেয়ারপারসনের কথায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য দেখা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে নগরের থানা বিএনপির একজন সভাপতি সুপ্রভাতকে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ম্যাডাম (বিএনপি চেয়ারপারসন) যদি তাকে (সুফিয়ান) সভাপতি না করার ইচ্ছা থাকতো তাহলে কথা দেওয়া উচিত হয়নি। তাকে কথা দিয়ে অন্যজনকে ওই পদে নির্বাচিত করাটা তার (সুফিয়ান) জন্য অবমাননাকর হয়েছে।’