• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

রাজারহাটে ১৪ ভূয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নামে অভিযোগ

অভিযোগরফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রজব আলীসহ ১৪ জন ভূয়া যুদ্ধাহত ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধাহত ভাতা বাতিলের অভিযোগ এনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হোসেন আলী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরসহ বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান রাজারহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রজব আলীসহ অভিযুক্ত ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কেহই তারা যুদ্ধাহত বা গুলিবিদ্ধ হন নাই। পাশাপাশি বিগত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন সময়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড-এর আহ্বায়ক (কমান্ডার) মুক্তিযোদ্ধা (মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০১৩২) মো. রজব আলীর নেতৃত্বে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কার্যালয়ের দেয়ালে রক্ষিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের (অফিসিয়াল) ছবি অত্র উপজেলা তথা সমগ্র কুড়িগ্রাম জেলার চার দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের প্রশংসা লাভের পক্ষে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেয়াল থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে মেজর জিয়াউর রহমানের ছবি প্রতিস্থাপন করেন। এক পর্যায়ে জাতির জনকের ছবিকেও বর্তমান কমান্ডার রজব আলীসহ অভিযুক্ত সকলেই পদদলিত করেন। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার খবর দ্রুত গোটা উপজেলাসহ কুড়িগ্রাম জেলার সর্বত্রে চার দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দের নিকট পৌঁছে যায়। তারপর কমান্ডারসহ অভিযুক্তরা জোট সরকারের নেতা-কর্মীদের নিকট বাহ্বা পান। অপরদিকে ওই সময় উপজেলার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা লাগাতারভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল মিটিং অব্যাহত রাখে। পরিশেষে ফলাফল ভিন্নখাতে মোড় নেয় এবং চারদলীয় নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতায় তাদের জন্য ভাল ফলাফল বয়ে আনে। ১৯৭১ সনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে কোন প্রকার যুদ্ধাহত কিংবা গুলিবিদ্ধ না হয়েও যুদ্ধাহত হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেন। যা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে লাখ লাখ টাকা তসরুব হচ্ছে।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের কপি বের করে ঐ রায়ে তাদের নাম বসিয়ে রি-প্রিন্ট করে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে প্রদর্শন করে অবৈধভাবে যুদ্ধাহত হিসাবে সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। এসব ঘটনা জানাজানি হলে অত্র উপজেলার সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখিত ১৪ জন ভূয়া যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা প্রেরণ করা হলো ঃ (১) মো. মোকলেছুর রহমান, পিতা-মৃত আব্দুল মামুদ, গ্রাম-গতিয়াসাম, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০১৩৯, (২) মো. আব্দুর রফিক, পিতা-মৃত কাচুয়া মামুদ, গ্রাম-মাধাই, (৩) মৃত মকবুল হোসেন, পিতা-মৃত তমিজ উদ্দিন, গ্রাম-রামহরি, (৪) মো. রজব আলী, পিতা-মৃত কছির উদ্দিন, গ্রাম-ফুলবাড়ী উপোনচৌকি, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০১৩২, (৫) মো. নুরুজ্জামান সরকার, পিতা-মৃত আব্দুস ছাত্তার ব্যাপারী, গ্রাম-মনশ্বর, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০০৩১, (৬) মো. আব্দুল মালেক, পিতা-মৃত আজির উদ্দিন, গ্রাম-মনশ্বর, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০, (৭) মো. নুরুল হক, পিতা-মৃত মোসলেম উদ্দিন, গ্রাম-চতুরা, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০২৭৬, (৮) মোহাম্মদ আলী, পিতা-মৃত অবির উদ্দিন, গ্রাম-খিতাবখাঁ, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০১১৬, (৯) সো. আবুল হোসেন, পিতা-মৃত আফাজ উদ্দিন, গ্রাম-নাটুয়ামহল, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০১৮৬, (১০) আব্দুস ছোবহান মন্ডল, পিতা-মৃত ওছিয়ত উল্ল্যা মন্ডল, গ্রাম-দেবীচরণ, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০১৭৫, (১১) আহাম্মদ আলী, পিতা-মৃত পনির উদ্দিন, গ্রাম-জয়কুমর, মুক্তিবার্তা নং-০৩১৬০৯০০৪৭, (১২) মো. ছামছুল হক, পিতা-মৃত আশরাফ আলী, গ্রাম-চান্দামারী, বাংলাদেশ গেজেট নং-২৯০১, (১৩) মৃত হরেন্দ্র নাথ (ভেলকা সাধু), পিতা-অজ্ঞাত, গ্রাম-পুনকর দেবীচরণ, (১৪) মো. সাবের আলী, পিতা-মৃত মকিম, গ্রাম-গতিয়াসাম, সকলের উপজেলা-রাজারহাট, জেলা-কুড়িগ্রাম। উল্লেখ্য, ১৩ নং ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা নয় বলে অভিযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মুক্তিযোদ্ধার কথা বলে জানা গেছে, অত্র উপজেলায় মাত্র দুই জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। তাঁরা হলেন-নাজিমখান ইউনিয়নের মো. আব্দুস ছাত্তার (৬৬) ও রাজারহাট সদর ইউপির নাটুয়ামহল এলাকার বছিয়ত উল্লা (৬৮)। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যেহেতু প্রেরণ করা হয়েছে, সেহেতু অত্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। বর্তমান রাজারহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. রজব আলীর ০১৭১০৬০৩৮৪২ নম্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ