• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন |

সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলছে

সিসি নিউজ: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেছে সোয়াত ও পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। ভোর ৬টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই অপারেশনের নাম দেয়া হয়েছে অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন। অভিযান চলাকালে ওই এলাকায় প্রচণ্ড গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এতে সোয়াত বাহিনীর দুই সদস্য আহত হয়েছে।

ঢাকার সোয়াত টিমের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিয়েছে চট্টগ্রামের সোয়াত, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। অভিযান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের এডিসি ছানোয়ার হোসেন।

ভোর ৬টার দিকে অবস্থান নিয়ে অপারেশনে অংশ নেয়া সদস্যরা বাড়িটির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রচণ্ড গুলি ও পাল্টাগুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর বিকট শব্দে একটা বিস্ফোরণ ঘটে। জানা যাচ্ছে, সোয়াত বাহিনীর এই অভিযানে থেমে থেমে প্রচণ্ড গোলাগুলি হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভিতর থেকে জঙ্গিরাও বোমা বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। এদিকে ওই ভবনে বেশ কিছু লোকজন আটকে পড়েছে। তাদেরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক দফা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিলেও তারা সাড়া দেয়নি। বরং তারা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বোমা-গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। ফলে ভোর থেকে চূড়ান্ত অভিযানের চালানো হচ্ছে।

এর আগে রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকা থেকে সোয়াটের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর দেড়টার দিকে সেখানে পৌঁছায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। চূড়ান্ত অভিযানের জন্য যাদের অপেক্ষায় ছিল চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই দুই প্রতিনিধি দল প্রথমেই চট্টগ্রাম পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘটনাস্থলেই কথা বলেন। পরে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নামেন।

ঘটনাস্থলে অভিযানে অংশ নেওয়া সিএমপি পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোর ৫টার দিকেই এই অভিযানটি শুরু হয়েছে। তবে আটকেপড়া লোকজনকে অক্ষত উদ্ধার করতে খুবই সতর্কতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌর শহরে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একটি আস্তানা থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর পাশের ওয়ার্ড প্রেমতলার আস্তানাটি ঘিরে রাখে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে সড়ক থেকে কয়েকশ গজ দূরে আস্তানার দিকে প্রবেশ করতে দেখা যায় পুলিশকে। পরে জঙ্গিদের শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে পিছু হটে। সকাল ৭টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রেমতলার আস্তানাটিতে সোয়াত বাহিনীর অভিযান চলছে। সেখানে থেমে থেমে উভয়পক্ষে গোলাগুলি চলছে বলে জানা যাচ্ছে। জঙ্গিরেও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করছে।

জঙ্গি দমনে চট্টগ্রাম পুলিশের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে অভিযান চালাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সিএমপি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাই জঙ্গি দমন অভিযানে সহায়তার জন্য সোয়াতের একটি বিশেষজ্ঞ দল এবং পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দলকে তলব করা হয়। সেই ভিত্তিতে তারা রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।

তবে জানা যাচ্ছে, ওই ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে আটকেপড়া কয়েকটি পরিবারের অন্তত ৩০জনকে জিম্মি করে রেখেছে জঙ্গিরা। তাদেরকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতেই পুলিশ চেষ্টা করছে। আটকেপড়া তিনটি পরিবারের সদস্যরা  রাতে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন, তারা ভাল আছেন।

কিছুক্ষণ আগে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (উত্তর) মসিউদ্দোল্লাহ রেজা সাংবাদিকদের জানান, সোয়াত টিম ভোর থেকে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে কিছু সময়ের মধ্যেই আস্তানাটি তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবেন।

এর আগে বুধবার বিকালে সীতাকুণ্ড পৌর শহরে ‘জেএমবির জঙ্গিদের’ একটি আস্তানা থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর পাশের ওয়ার্ডের ভবনের নিচতলার আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে তাদের উপর তিনটি হাতবোমা ছুঁড়ে মারে জঙ্গিরা। এতে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মোজাম্মেল সহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ